• ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৬শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ ২ যুবক আটক

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত আগস্ট ৯, ২০২৬, ১৮:৫৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ ২ যুবক আটক

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশাল শহরের সাপানিয়া এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দেশীয় অস্ত্রসহ দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি টিম শনিবার সন্ধ্যা রাতে শহরের ৪নং ওয়ার্ডের সাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান সৈকতের (৩২) মালিকানাধীন ঘেরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করাসহ মো. মেহেদী হাসান (২৫) এবং মো. আব্দুর রহমানকে (২৫) আটকে সফলতা পায়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মূলহোতা ঘের মালিক সৈকত পালিয়ে গেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিহ্নিত অপরাধী সৈকতের ঘেরে হানা দেওয়া হয়।

এ সময় সৈকত পালিয়ে গেলেও তার দুই সহযোগী মেহেদী হাসান এবং আব্দুর রহমানকে আটকে সফলতা মেলে এবং তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী টিনের বসতঘরের অভ্যন্তরে থাকা একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে দুটি ধারালো ছোড়া, একটি হাঁসুয়া, দুটি ডেগার, পাঁচটি রামদা ও দুটি চাইনিজ কুড়ালসহ মোট ১৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

আটক মেহেদী হাসান কাউনিয়া থানার নগরের পোল এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে এবং আব্দুর রহমান ভাটিখানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মৃধার পুত্র।

পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, সাপানিয়ার বাসিন্দা সৈকত তার মালিকানাধীন ঘেরটিকে একটি সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত করেছিলেন। সন্ধ্যা হলে সেখানে মাদকের আসর বসত এবং মাঝেমধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকার উঠতি বয়সি সন্ত্রাসীদের দেখা যেত। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কানাঘুষা চললেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতেন না। আবার কেউ কেউ সৈকতের এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বেইজ্জতিও হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আলোচিত সন্ত্রাসী সৈকতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ৪টি মামলা চলমান, যা আদালতে বিচারাধীন। এই সন্ত্রাসী সেসব মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন এবং তার অপরাধকর্ম চলমান ছিল।

সন্ধ্যা রাতে ঘেরে আসর বসানোর বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে কাউনিয়া পুলিশ যুবকের অস্ত্র ভান্ডারের সন্ধান লাভ করে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানার ওসি সনজিৎ নাথ রূপালী বাংলাদেশকে জানান, বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হয়ে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় সহযোগী দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হলেও পালিয়ে যান মূলহোতা ঘের মালিক সৈকত। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানান ওসি।