আমতলী প্রতিনিধি॥ আমতলীতে সানজিদা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে আমতলী থানা পুলিশ। তবে গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ এটিকে পরিকল্পিত ভাবে শ্বসরোধে হত্যার করেছে তার স্বামী ও শ্বশুরী। বুুধবার রাতে আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া গ্রামের উজ্জল তালুকদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ ও সানজিদার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে পটুয়াখালীর কালিকাপুর ইউনিয়নের পসুরিবুনিয়া গ্রামের আবুবকর তালুকদারের মেয়ে সানজিদা আক্তারের (২২) সঙ্গে আমতলী উপজেলার গেরাবুনিয়া গ্রামের মোহাম্মদ কাবিল তালুকদারের ছেলে উজ্জ্বল তালুকদারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।
বিয়ের এক বছর পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শাশুড়ি মাকসুদা বেগম সানজিদাকে (২২) শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
যৌতুকের দাবী তুলে প্রায়ই তাকে বেধরক মার করা হত বলে অভিযোগ সানজিদার পরিবারের। নিহত সানজিদার দেড় বছর বয়সী আবু সাঈদ নামে এক ছেলে ও আড়াই বছর বয়সী উনজিলা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা আবুবকর তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, অভাবের সংসার থেকেও বিভিন্ন সময়ে জামাইকে প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার মালামাল এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
এরপরও মেয়ের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। যৌতুকের দাবিতে একাধিকবার তাকে মারধর করা হয়। গত মে মাসে মারধরের পর মেয়েকে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, বুধবার দুপুরে তাকে চাল চুরির অপবাদ দিয়ে স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার ও শ^াশুরী মাকসুদা বেগম নির্যান করে শ্বস রোধে হত্যা কওে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।
পরে নিজেদেরকে আড়াল করার জন্য সানজিদা আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে। আমতলীর আঠারগাছিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত গাজীপুর বাজারের পুলিশ ফারির এসআই মো. গোলাম হাফিজ বলেন, খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করি।
লাশটি ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। অভিযুক্ত উজ্জ্বল তালুকদার মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করি নাই। এবং কোন সময় যৌতুকও নেইনি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।