বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর নেতৃত্বে এলাকায় একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে উঠেছিল। বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করা এবং ভিন্নমতের মানুষকে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জহিরুল ইসলাম আর এলাকায় প্রকাশ্যে নেই। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দেশের বাইরে থেকেও তিনি মনোহরগঞ্জের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর নির্দেশে এলাকায় মিছিল-মিটিং হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে এবং গোপনে দলীয় বৈঠক হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা।
জহিরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুবলীগের নেতা হিসেবে মনোহরগঞ্জে জহিরুল ইসলামের রাজনৈতিক প্রভাব ছিল ব্যাপক। স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একটি অংশ তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করত বলে দাবি করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে জহিরুল ইসলাম এলাকায় নিজের প্রভাববলয় তৈরি করেছিলেন। তাঁর বিরোধিতা করা ব্যক্তি কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলা, চাপ সৃষ্টি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, জহিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। তাঁদের অভিযোগ, কখনও তিনি নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিতেন, আবার কখনও নিজেই বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বা সংঘাতে উপস্থিত থাকতেন।
বিরোধী রাজনৈতিক মতের কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং হামলার মতো ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তাঁদের দাবি, এসব ঘটনায় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল। এসব কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জহিরুল ইসলামের রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জহিরুল ইসলাম বা তাঁর পক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জহিরুল ইসলাম এলাকায় আর প্রকাশ্যে আসেননি। কয়েকটি সূত্রের দাবি, বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদেশে থেকেও তিনি মনোহরগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বজায় রাখা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি তাঁদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “জহিরুল এলাকায় না থাকলেও তাঁর প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাঁর অনুসারীরা এখনও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছেন।”
বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগের মিছিল, সভা, সমাবেশ, প্রচার-প্রচারণাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার পরও মনোহরগঞ্জে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে জহিরুল ইসলামের নির্দেশনা রয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, তাঁর নির্দেশে এলাকায় মিছিল-মিটিং করা হচ্ছে এবং দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করতে গোপন বৈঠকও হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মনোহরগঞ্জ থানায় প্রায় দুই ডজনেরও বেশি মামলা হয়েছে৷
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অতীতে যারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছেন, তাঁদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সমাজকর্মী আজাদ খান বলেন, “আমরা এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি বলেন, “জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি যদি দেশের বাইরে থাকেন, তাহলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় এনে তাঁর বিচার করা উচিত।”
আজাদ খান আরও বলেন, “অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকায় যেন আবার কোনো ধরনের ভয়ভীতির রাজনীতি ফিরে না আসে, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
এদিকে, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তাঁর পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ কারও বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও কেউ যেন বিদেশে অবস্থান করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশাল সাংবাদিক ফোরাম (বিএসএফ)-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রয়াত সাংবাদিক এম মিরাজ হোসাইনের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের আয়োজনে বরিশাল প্রেসক্লাবের হলরুমে এ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সুমন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন ও হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী আল মামুন, বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি নিকুঞ্জ বালা পলাশ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন হাসান।
বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ পান্থের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন কমল সেন গুপ্ত, এম জহির, সুখেন্দু এদবর, কেএম এনায়েত হোসেন, মর্তুজা জুয়েল, খোকন আহমেদ হীরা, ফাহিম ফিরোজ, আরিফুল ইসলাম, এম সালাউদ্দিন, এমকে রানা ও আরিফ হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাসির উদ্দীন, মঈনুল ইসলাম সবুজ, কামরুজ্জামান জুয়েল রানা, জিহাদ রানা, ফিরোজ গাজী, সাইফুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম, রিপন হাওলাদার, আরিফ হোসেন (চ্যানেল আই) ও সুমন হোসেনসহ বরিশালের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
দোয়া অনুষ্ঠানে মরহুম সাংবাদিক এম মিরাজ হোসাইনের পিতা নুরুল হক মিয়া এবং তাঁর দুই ছেলে মাহিমুল হাসান এমদাদ ও সাবের হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
পরে মরহুম সাংবাদিক এম মিরাজ হোসাইনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান।