• ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মিথ্যা অপবাদে

তজুমদ্দিনে নারী-পুরুষের গলায় জুতার মালা দিয়ে হেনস্তা মামলা দায়ের গ্রেপ্তার-৪

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ৭, ২০২৬, ২১:১৮ অপরাহ্ণ
তজুমদ্দিনে নারী-পুরুষের গলায় জুতার মালা দিয়ে হেনস্তা মামলা দায়ের গ্রেপ্তার-৪

তজুমদ্দিনপ্রতিনিধি ॥ ভোলার তজুমদ্দিনে চাঁদা না দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে মিথ্যা অপবাদে জুতার মালা দিয়ে প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনায় নেট দুনিয়ায় প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

এঘটনায় তজুমদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ ৪ চাঁদাবাজ সন্ত্রাসকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

থানা পুলিশ ও এজহার সুত্রে জানা যায়, এক সময়ের মেঘনার জলদস্যু দুলাল বাহিনীর প্রধান দুলাল প্রধানের ছেলে সজিব উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শাহে আলমকে সরকারি আবাসনের ঘর দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা চাঁদা চায়।

শাহে আলম চাঁদা দিয়ে ঘর নেয়ায় ডাকাত সজিব তার উপর ক্ষীপ্ত হতে থাকে। এক পর্যায়ে গতকাল ৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহে আলম (৫৮) ব্যক্তিগত কাজে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহিদ মেম্বারের বাসায় যায়।

একই সময় ভোক্তভোগী নারী তাসলিমা বেগম (৫০) ব্যক্তিগতকাজে মেম্বারের বাসায় গেলে সজিবের নেতৃত্বে শরীফ জমাদার, ভেট্টো, সুমন ভূলাই, মহিউদ্দিন মাঝি, সবুজ ভূলাই, রুবেল, সিদ্দিক ও জুয়েলের নেতৃত্বে নারী-পুরুষকে অসামাজিক কার্যকলাপের অপবাধ দিয়ে পুনরায় ১লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী করে।

চাঁদা না দেয়ায় তাদেরকে এলাপাতাড়ি মারপিট করে। পরে তাদের জোরপূর্বক জুতার মালা পরিয়ে জনসম্মুখে অপমান ও হেনস্তা করা হয়। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেট দুনিয়ায় নিন্দার ঝড় উঠে এবং এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শাহে আলম বাদী হয়ে ৯জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জনকে আসামী করে তজুমদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন মামলা নং-০৩। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৪ আসামীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃরা হলেন, সজিব (২৮), রাকিব ভূট্টো, রায়হান (১৯) ও রাসেল (২১)। পরে আটককৃতদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করে পুলিশ।

এর আগে কোরবানীর ঈদের আগে বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসারনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা জিল্লুর রহমানকে চাঁদার দাবীতে প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারপিট করে সেই ভিডিও এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।

অন্যদিকে ২০২৫ সালে সোনপুর আবাসনের বাসিন্দা এক নারীকে কু-প্রস্তাব দেয় সজিব। তাতে মহিলা রাজি না হওয়ায় গর্ভবতী সেই মহিলাকেও সেই সময় মধ্যযুগীয় কায়দায় মারপিট করে।

সজিবের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। সে মেঘনার কুখ্যাত জলদস্যু দুলাল বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্ব পালন করতেন বলেও এলাকাবাসী জানার।

তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে মামলা রুজু হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।