• ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৫শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালের আগৈলঝাড়ার তাজমহলটি রক্ষণাবেক্ষনের দাবী

admin
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০১৯, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
বরিশালের আগৈলঝাড়ার তাজমহলটি রক্ষণাবেক্ষনের দাবী

শামীম আহমেদ ॥

অতীত ঐতিহ্যের স্মৃতিবিজড়িত বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত ফুল্লশ্রী গ্রামে নির্মিত বাংলার তাজমহলটি পরিদর্শন করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস। পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস জানান, তাজমহল খ্যাত এই স্থাপত্য শিল্পটি অতিদ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

এলাকাবাসীর দাবী দীর্ঘদিনেও তাজমহলটি সংস্কার না করায় এটি এখন ধ্বংসের পথে। তাজমহল খ্যাত এই স্থাপত্য শিল্পটি নির্মাণের পর সংস্কারের অভাবে এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পরে আছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে শিল্পটিকে সংষ্কারসহ রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী ও পর্যটকরা।

বুধবার উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামে নির্মিত বাংলার তাজমহলটি পরিদর্শন করেন এবং তাজমহলটি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বাংলা ১৩৪৭ সালে জমিদার কামিণী গুপ্তের দ্বিতীয় পুত্র ডা. শরৎ চন্দ্র গুপ্ত তার পূর্বপুরুষদের স্মৃতি ধরে রাখতে নিজবাড়ির পুকুরপাড়ে ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে ৭টি মূল স্তম্ভের ওপর বর্গাকারে একটি সমাধি নির্মাণ করেন।

সমাধির নামকরণ করা হয় কালীতারা নিত্যানন্দ স্মৃতিমন্দির। নির্মাণশৈলীর নৈপুণ্যের কারণে এতদাঞ্চলের মানুষ এটিকে তাজমহল নামেই আখ্যায়িত করেছে। সমাধিটি এমনভাবে তৈরী করা হয়েছে যেদিক থেকেই তাকানো হোক না কেন দেখতে ঠিক তাজমহলের ন্যায়।

অনেক দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা এই স্থাপত্য শিল্পটি দেখার জন্য প্রতিনিয়ত এখানে আসেন। তাজমহলের গায়ে খোদাই করে লেখা আছে আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের প্রভাবশালী জমিদার কামিণী গুপ্তের পুত্র ডা. শরৎ চন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক তার মাতা কালীতারাসহ বংশের যশোঃ প্রসাদাৎ ভূবি, প্রতক্ষ্য ভূতভুবি, দিষ্টা দাশগুপ্ত, পক্ষভুব সুন্দানী ও তাজমহলের পশ্চিমপাশে জ্যোতি কালী মোহন দাশগুপ্ত, উত্তরে পিতৃসম সত্যভামা গুপ্তাসহ তিনটি সমাধিক্ষেত্র রয়েছে। চারপাশে রয়েছে চারটি মিনার যা তাজমহলকে আরও মনোরম করেছে। স্থানীয় গৃহবধূ নীলিমা দাস জানান, বর্তমানে ওই জমিদারের ১৭টি পরিবার ভারতে বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করছেন।

তিনি আরও জানান, এ স্থাপত্যকীর্তিটি যেমন রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার, তেমনি শিল্পটির সমস্ত সম্পত্তি উদ্ধার করা হলে এখানে গড়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। কেননা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক লোক এখানে আসেন এই মনোরম স্থাপত্য শিল্পটি একনজর দর্শনের জন্য। এসময় উপস্থিত ছিলেন, মন্দির কমিটির সভাপতি সঞ্জয় দাস, সাধারন সম্পাদক নিমাই দাস, সাংবাদিক সরদার হারুন রানা, এসএম শামীম, স্বপন দাস প্রমুখ। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের বলেন, তাজমহলটি যেমন সকলের রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার, তেমনি শিল্পটির এই স্থাপত্য সংস্কার করা গেলে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাও সম্ভব।