• ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে কুকুরের আক্রমণে আহত বিপন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ৫, ২০২৬, ১৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে কুকুরের আক্রমণে আহত বিপন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুল উদ্ধার

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় কুকুরের আক্রমণে আহত একটি বিপন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুল (সিভেট) উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রাজগুরু এলাকার কিরআতুল কুরআন কওমি মাদরাসা প্রাঙ্গণ থেকে স্থানীয় এক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবিক উদ্যোগে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি গন্ধগোকুল কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। প্রথমে প্রাণীটিকে চিনতে না পারলেও পরে এটি গন্ধগোকুল বলে শনাক্ত করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কুকুরের কবল থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়। কুকুরের কামড়ে প্রাণীটির লেজে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিরল এ বন্যপ্রাণীটিকে একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। পরে বিষয়টি বাবুগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগকে জানানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে গন্ধগোকুলটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।

উদ্ধারকারী হাফেজ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, কুকুরের আক্রমণে প্রাণীটি আহত হয়েছিল। আমি ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা মিলে সেটিকে উদ্ধার করি। পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছি, যাতে চিকিৎসা শেষে আবার প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

মাদরাসার এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা দেখি একটি কুকুর প্রাণীটিকে আক্রমণ করছে। স্যার আমাদের ডাক দিলে আমরা সবাই মিলে কুকুরটিকে তাড়িয়ে গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার করি। পরে নিরাপদে রেখে বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়। এমন একটি বিরল প্রাণীকে বাঁচাতে পেরে আমাদের খুব ভালো লাগছে।

বাবুগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুম মোস্তফা কাওসার বলেন, উদ্ধার হওয়া গন্ধগোকুলটিকে বরিশাল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে প্রাণীটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।

কোনো বন্যপ্রাণী আহত বা বিপদে পড়লে সেটিকে নিজের কাছে আটকে না রেখে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এতে প্রাণীটির জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, গন্ধগোকুল বা সিভেট বাংলাদেশের প্রায় বিপন্ন একটি নিশাচর বন্যপ্রাণী। এটি সাধারণত রাতের বেলায় চলাচল করে এবং ফল, পোকামাকড়, ছোট সরীসৃপ ও ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। বনাঞ্চলের খাদ্যশৃঙ্খল, বীজ বিস্তার এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।