আমতলী প্রতিনিধি ॥ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমতলীর এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিকট থেকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক লেনদেনের একটি অডিও ভাইরালের পর বুধবার আমতলী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকিরকে তার পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুর পর সম্প্রতি আমতলী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকির আমতলীর এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিকট থেকে ১০ লক্ষ টাকা গ্রহন করেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তিনি সকল নেতা কর্মীদের সাথে গোপনে সভা করে বিষয়টি জায়েজ করার জন্য চেষ্টা করেন।
ওই সভায় কপোথকপনের বিষটি গোপনে কোন এক নেতা অডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিলে ভাইরালের পর বিভিন্ন মিডিয়াসহ সারাদেশে তোলপার শুরু হয়।
বিষয়টি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসলে বুধবার সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমতলী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জালাল উদ্দিন ফকিরকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় আহবায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিবএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
গত ২৫ ডিসেম্বর বুধবার রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সম্পাদক ও উপজেলা কমিটির নেতৃস্থাণীয় নেতাদের নিয়ে তিনি গোপনে সভা করেন। ওই সভায় তাকে বলতে শোনা যায় যে, আমাদের নেতা কর্মীদের আমরাতো কোন টাকা পয়সা দিতে পারি না যদি এই টাকা দিয়ে আপনাদের কিছু টাকা দিতে পারি তাহলে কিছুটা চলা যায়।
নির্বাচনের দিন আমরা কেন্দ্রে গিয়ে ওই প্রার্থীকে ভোট দিব। এছাড়া আমরাতো আন্দোলনে আছি আমাদের পেটে খুদা। এই খুদা মেটানোর জন্য টাকা প্রয়োজন। তবে ওই সভায় কিছু নেতারা টাকা নিতে না চাইলেও তিনি টাকা নেওয়ার পক্ষে তার যুক্তি তুলে ধরতেও শোনা যায়।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, বিএনপি গনতন্ত্র এবং নাগরিকদের ভোটাধিকারের আদায়ের জন্য বিএনপি ভোট বর্জন করে আন্দোলনে রয়েছে সেখানে টাকা নিয়ে আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেওয়া আত্মহত্যার সামিল। কেন্দ্রীয় বিএনপি আহবায়ককে বহিস্কার করে সঠিক কাজ করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।