বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরগুনার বেতাগী উপজেলার পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক, আয়া ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগবিধি অনুসারে এসব পদে প্রধান শিক্ষকের দপ্তর থেকে প্রেরিত পত্রে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় বিদ্যালয় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
কিন্তু প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ উঠে আসে। নিয়োগ বোর্ডের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে পরীক্ষা স্থগিত করেন।
জানা গেছে, পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শূন্যপদে সহকারি প্রধান শিক্ষক, আয়া ও অফিস সহায়ক পদে চাহিদা চেয়ে এ বছরের গত ৭ সেপ্টেম্বর তারিখ জাতীয় পত্রিকা দৈনিক সমকাল ও স্থানীয় পত্রিকা দ্বীপাঞ্চল পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। এরপর ৫ সদস্যের নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়।
গত ১৩ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা তারিখ থাকলেও প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত হয়। পরবর্তী ২৮ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে দ্বিতীয় বার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত হয়।
এসময় একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান সহকারি প্রধান শিক্ষক, আয়া ও অফিস সহায়ক পদে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে মোট অংকের টাকা উৎকোচ নেয়। এমনকি এক পদের বিপরীতে ২-৩ জনের কাছ থেকে টাকা নেয়।
নিয়োগ পরীক্ষার টাকা নেওয়ার বিষয় এলাকায় ভাইরাল হয়। আয়া পদে রীনা রানী’র কাছ থেকে তিন বছর আগে নিয়েছে প্রধান শিক্ষক ৪ চার লাখ টাকা।
এরপর প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান ও বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (ইসলাম শিক্ষা) আল আমিন একবছর আগে রীনা রানী’র কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেয়। গত একমাস আগে প্রধান শিক্ষক আরো ২ লাখ টাকা নেয়। এবাযত রীনা রানী’র কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা উৎকোচ নেয়। প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার ফোনালাপ এলাকায় ভাইরাল হয়েছে।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে দীপংকর চক্রবর্তী’র কাছ থেকে ৫ লাখ টাকায় নিয়োগ দিবে চুক্তি হয়। তিন লাখ টাকা অগ্রিম হাতিয়ে নেয় প্রধান শিক্ষক । প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমান ও সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে চাকুরি প্রত্যাশী দিপংকর চক্রবর্তী এর মধ্যস্থলে যোগাযোগ স্থাপন করেন দিপংকরের মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন ও নিয়োগ।
একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক বজলুর রহমানের কাছ থেকে ফোনালাপ ভাইরাল হয়। দীপংকর চক্রবর্তী চাকুরি করছেন উপজেলার মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক (পন্ডিত) পদে চাকুরি করছেন। পদোন্নতির জন্য পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করেন।
এরপর দিপংকর চক্রবর্তী’র চাকুরি নিশ্চিত করতে তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ম্যানেজ করার জন্য ৫ লাখ টাকা চুক্তি নেয়। এসব ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়।
এবিষয় মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,’এটা ভিত্তিহীন অভিযোগ।সত্যতা প্রমানে বিদ্যালয়ের সভাপতি’র কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হোক। এরপর সত্য বেরিয়ে আসবে।’
এবিষয় মোকামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাহিদ মাহমুদ হোসেন লিটু বলেন,’ প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এবিষয় পুটিয়াখালী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বজলুর রহমান বলেন,’ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তবে আয়া পদে রিনা’র কাছে কিছু চাওয়া হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. ফরিদ উদ্দিন গাজী বলেন,’ বিদ্যালয়ে শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। মেধা মূল্যালয়নে তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার অভিযোগে উপযুক্ত প্রমান পাওয়া গেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’