বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ পিরোজপুরের নেছারাবাদে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয়ের চিত্র দেখা গেছে পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে পাঁচজনের কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৫ জন এবং কর্মচারী তিনজন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর নেছারাবাদের ২১টি মাদরাসা থেকে ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাসের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন। তবে ৮টি মাদ্রাসার পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাটিকেলবাড়ী দরগাহ শরীফ মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র দুজন। নেছারাবাদ মোজাদ্দেদিয়া মাদ্রাসায় ১১ জনের মধ্যে দুজন, গাজীপুর মৈশানী হারুন অর রশিদ ফাজিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে পাঁচজন, বিন্না নেছারিয়া দাখিল মাদরাসায় ১৬ জনের মধ্যে সাতজন, আউরিয়া হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৪ জনের মধ্যে নয়জন, মাহমুদকাঠি দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১২ জন, হযরত রাবেয়া বসরি (রহ.) মহিলা দাখিল (আমিরহাজী) মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে পাঁচজন এবং গুয়ারেখা রাব্বানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে সাতজন পাস করেছে।
তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসার ফলাফল। পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে একজনও পাস না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাদের প্রশ্ন, ১৫ জন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কাউকেই কেন পাস করানো গেল না?
পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মাদ্রাসাটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো নন-এমপিওভুক্ত। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউই পাস করতে পারেনি। এর সুনির্দিষ্ট কারণ তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।
তিনি বলেন, মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা হয় না। এ কারণে কখনো কখনো শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকতেন। ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। মাদরাসাটি এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করেন তিনি।
অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, এমপিওভুক্ত না হওয়া কিংবা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই ফল বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান ও উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক তদারকি—সবকিছু পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ফলাফল খারাপ হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাদের কাছে চিঠি দিয়ে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে।