• ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৪শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বরগুনার তালতলীতে বঙ্গোপসাগরে ১৬ জন জেলে নিয়ে দুই ট্রলারডুবি: দুই জেলে নিখোঁজ

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ৮, ২০২৬, ২০:০৬ অপরাহ্ণ
বরগুনার তালতলীতে বঙ্গোপসাগরে ১৬ জন জেলে নিয়ে দুই ট্রলারডুবি: দুই জেলে নিখোঁজ

আমতলী প্রতিনিধি॥ বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্বার করা সম্ভব হলেও এখনও ২ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই দূর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ জেলেরা হলেন- কালাম পাইকার, শহীদ। তারা দুজনেই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

উদ্বার হওয়া জেলেরা হলেন- খলিল মাষ্টার, রিদয় জোমাদ্দার, দুলাল, ইমরান, ফারুক, আল-আমিন, মনির, আশরাফুল, জামাল, ইমরান, শামিম, নাসির, সাগর, আছিফ, নাসির, নুরুজ্জামান। তারা সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। উদ্বার হওয়া জেলে নাসির জানায়, মঙ্গলবার সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে দুটি মাছ ধরার ট্রলার কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

এর মধ্যে তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন ট্রলারে ১৩ জন এবং আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারে ৫ জন জেলে ছিলেন।

রাতে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রচ- ঢেউয়ের ছোবলে ট্রলার দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢেউয়ের তোড়ে আলমগীর খলিফার মালিকানাধীন ট্রলারটি ডুবে গেলে ওই ট্রলারেরা জেলেরা জীবন বাঁচাতে তপন জোমাদ্দারের ট্রলারে গিয়ে উঠেন।

কিন্তু একপর্যায়ে প্রচ- ঢেউয়ে আঘাতে দ্বিতীয় ট্রলারটিও ডুবে গেলে জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে রাত ৩টার দিকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে ভর্তি করেন।

তবে বাকি ২ জনের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। এদিকে নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের অপেক্ষায় উপকূলের পরিবারগুলোতে এখন চলছে শোকের মাতম।

ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, গতকাল ১৮ জন জেলেসহ দুটি ট্রলার সাগরে ডুবে যায়।

আজ সকালে ১৬ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তবে অন্য ২ জন জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সমিতির পক্ষ থেকেও নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

তালতলী কোষ্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের জন্য আমরা এখনও অভিযান শুরু করতে পারিনি। কারণ সাগর উত্তল রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলেই উদ্ধার অভিযানে শুরু করব।

এবিষয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সাথে সাথে কোষ্টগার্ড এবং নৌ পুলিশকে অবহিত করেছি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে বেগ পেতে হচ্ছে।