স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী॥ বরগুনার বেতাগীতে গৃহবধূর হাতে শ্বাশুড়ি নির্যাতনের ঘটনায় শ্বাশুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
বেতাগী থানায় মামলা সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শিবু বসু’র বড় ছেলে শুভ বসুর স্ত্রী জ্যোতি মৃধা (২৬) তার শ্বাশুড়ি রিতা রানী বসুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ঘর থেকে বের করে দেয়।
এবিষয় ভুক্তভোগির ছোট ছেলে শোভন বসু বলেন,’ দীর্ঘদিন ধরে আমার মা রিতা রানী বসুকে নির্যাতন করতো আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রী জ্যোতি মৃধা। ঘটনার পরের দিন ৪ জনকে আসামি করে বেতাগী থানায় মামলা দায়ের করি এবং উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাই।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্র জানা গেছে, বর্তমানে রিতা রাণী বসুকে বরিশাল শের -ই- বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এবিষয় ভুক্তভোগির ছোট ছেলে শোভন বসু গত বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চারজন আসামি করে বেতাগী থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ এবং বেতাগী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুত্রবধূ জ্যোতি মৃধা তার শ্বাশুড়িকে বেধড়ক মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়।
মুহূর্তেই যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ভুক্তভোগী শ্বাশুড়ি রিতা রাণী বসু নিজেই নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন পুত্রবধূ জ্যোতির বিরুদ্ধে।
ওই দিন বিকেলে শতাধিক প্রতিবেশীরা বিচারের দাবিতে ঝাড়ু, জুতা নিয়ে অভিযুক্ত পুত্রবধূ জ্যোতি মৃধার বাাড়ি ঘেরাও করে। পরে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন এবং ওই দিন রাতেই থানা পুলিশ মামলা রুজ্জু করেন।
প্রতিবেশী একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও ভুক্তভোগী রিতা রাণী বসুর গায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। প্রতিবেশীরা আঘাতের চিহ্ন কিসের জানতে চাওয়া হলে, ভুক্তভোগী বলতেন, ঘরের মেঝেতে পরে গেছে এসব অজুহাতের কথা বলতো ।
প্রতিবেশীরা আরো জানায়, গৃহবধূর আচরণের কারণের শিবু বসুর বাসায় ভাড়াটিয়াও থাকতে পারতো না। বাধ্য হয়ে ভাড়াটিয়ারা অন্যত্র চলে যেতো।
এবিষয় নিয়ে অভিযুক্ত জ্যোতি মৃধা’র কাছে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে, শোভন বসু গত ৫ সেপ্টেম্বর ৪ জনকে আসামি কনে বেতাগী থানায় মামলা করেন।
আসামিরা হলেন পুত্রবধূ জ্যোতি মৃধা, তার স্বামী শুভ বসু, জ্যোতি মৃধা’র মা নীলা রানী মৃধা এবং বাবা সুভাষ মৃধা। ঘটনার পর থেকে আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বেতাগী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, গৃহবধূ কর্তৃক শ্বাশুড়ি নির্যাতনের ঘটনায় বেতাগী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামীরা পলাতক রয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।