• ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বরিশালে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে বাণিজ্য মেলা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৬, ১৯:৫২ অপরাহ্ণ
বরিশালে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চলছে বাণিজ্য মেলা

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশাল নগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পরশ সাগর মাঠে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চলছে মাসব্যাপী ‘শিল্প ও বাণিজ্য মেলা’। গত ২৩ মে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও শুরু থেকেই এটি নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই মেলাটি পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিনে গত ৫ জুন মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিকেলের পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রবেশের টিকিটের মূল্য ২০ টাকা রাখা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশের কোনো উপস্থিতি নেই। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা। মেলায় তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের গতিবিধি নজরদারি করারও অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

মেলায় বিভিন্ন পণ্যের স্টল ছাড়াও শিশুদের দোলনা, চরকা ও ভুতঘরসহ নানা বিনোদন ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ‘ভাগ্য পরীক্ষা’র বল ছুড়ে পুরস্কার জেতার আড়ালে সেখানে জুয়া খেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক দর্শনার্থী। এ ছাড়া মেলার পাশে চলচ্চিত্রের নামে ‘অশ্লীল ছবি’ প্রদর্শনী ও উচ্চ শব্দের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দারা।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। প্রথম দিন উদ্বোধনের পর এক দফা স্থগিত করা হলেও পরে পুনরায় মেলাটি শুরু হয়।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, ‘কালেক্টর স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি নেই জেনেই আমরা মেলা শুরু করেছিলাম। কেন এত জটিলতা তৈরি হলো জানি না।’ মেলাটি সফলভাবে শেষ করতে তিনি সবার সহযোগিতা চান।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞার কাগজ আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে কীভাবে মেলা চলছে তা জানা নেই। মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।’

এ বিষয়ে বরিশালের পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনও আইনি জটিলতার বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি।