আমতলী প্রতিনিধি॥ আমতলীতে সংখ্যালঘু এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা এবং ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন কয়েকশ’ পরিবার।
প্রতিরোধে শত শত পরিবার দা লাঠি নিয়ে রাত জেগে পাহাড়া দিয়েছে মহল্লায় মহল্লায়। জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আমতলীর পুরাতন বাজারের চুন্ন তালুকদারের মিলের সামনে পায়রা নদীতে শুক্রবার রাত ১১টার সময় দুটি ট্রলারে ৪০-৫০ মানুষ দেখতে পান।
এখবর ছড়িয়ে পড়লে আমতলী পৌরসভার হিন্দু অধুস্যিত ৫নং ওয়ার্ডের পুরাতন লঞ্চঘাট, পুরাতন বাজার, ৬নং ওয়ার্ড আল হেলাল মোর থেকে নতুনবাজার চৌরাস্তা মোর এবং ৭নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল সড়ক এলাকায় বসবাস রত সংখ্যা লঘু পরিবারের সদস্যদের মাঝে ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর পর তারা পাড়ায় মহল্লায় নিজ উদ্যোগে দা লাঠি নিয়ে নিয়ে পাহারা বসান। ৬নং ওয়ার্ডের শিক্ষক জগদিশ কবিরাজ বলেন, শুক্রবার রাতে আমরা সারা রাত মহল্লায় পাহারা দিয়েছি। একই কথা বলেন, শিউলী মালা নামের এক সমাজ কর্মী।
বিনয় দাস নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, যতদিন পরিস্থিতি শান্ত না হয় ততদিন আমরা পাহারায় থাকবো। মিঠাবাজার এলাকার শিপ্রা রানী নামের এক নারী জানান, ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় আমরা সারারাত ঘুমাতে পারি নাই। পরিবারের সবাই আমরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাখওয়াত হোসেন তপু বলেন, শুক্রবার থেকে আমরা কাজে যোগ দিয়েছি। তবে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
ডাতাত আতঙ্কের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আমিও পুলিশ নিয়ে রাতে পাহাড়া দিয়েছি। কালি মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টা শনিবার দুপুরের সময় আমতলী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত কালি মন্দিরের আধা শতাংশ জমি টিনের বেড়া দিয়ে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই এলাকার বাসিন্দা মন্নান মাসুদ নামে এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি।
তাৎক্ষনিক এখবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত হিন্দু সম্প্রদায় লোকজন তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এর প্রতিবাদ করেন এবং উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশ্ররাফুল আলম ও সহকারী কমিশনার (ভ’মি) তারেক হাসান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কালি মন্দিরের জমি দখল মুক্ত করেন। অভিযুক্ত মন্নান মাসুদ বলেন, জমি আমার তাই বেড়া দিতে চেয়েছিলাম।
প্রশাসন এসে বেড়া ভেঙ্গে দিয়েছে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশ্রাফুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দখল করা কালি মন্দিরের জমি দখল মুক্ত করা হয়েছে।
বিএনপির শান্তি সমাবেশ গত তিন দিন ধরে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়সহ মানুষের জান মাল রক্ষার জন্য শান্তি সমাবেশ করছে।
তারা মাইকিং করে কাউকে চাঁদা দিতে নিষেধ করছে। এবং হিন্দু অধুস্যিত পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে বিএনপির সাবেক আহবায় মো. জালাল উদ্দিন ফকির ও সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা তাদের নিরাপদে বসবাসের জন্য অভয় দিচ্ছেন।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন ফকির বলেন, আমরা সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখার জন্য সর্বাত্মাক চেষ্টা করছি।
যাতে তাদের উপর কেউ হামলা কিংবা কোন ধরনের সমস্যা করতে না পারে তার জন্য দলের সকল নেতা কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনের বাসায় বাসায় গিয়ে তাদের খোজ খবর নিচ্ছি। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।