• ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বরগুনায় ভালো ময়নাতদন্তের জন্য ধর্ষণের শিকার মৃত কিশোরীর বাবার কাছে টাকা দাবি

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৪, ১৯:৫১ অপরাহ্ণ
বরগুনায় ভালো ময়নাতদন্তের জন্য ধর্ষণের শিকার মৃত কিশোরীর বাবার কাছে টাকা দাবি

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরগুনার পাথরঘাটায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) লাইব্রেরিতে আটকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করায় সে ‘আত্মহত্যা’ করে। এ ঘটনায় বরগুনা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ‘ভালোমতো’ করে দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তি টাকা দাবি করেছেন।

আজ শনিবার বেলা ২টার দিকে স্কুলছাত্রীর বাবা মোস্তফার মোবাইল ফোনে ঢাকা মহাখালী রাসায়নিক পরীক্ষাগারের দিলীপ কুমার সাহা পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করেন।

এর আগে, গত ২৭ জুন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত চরদুয়ানী বাজারের মিনা লাইব্রেরি অ্যান্ড কসমেটিকসের দোকানে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে ২৮ জুন ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করলে ৩ জুলাই তাঁর মা লিলি বেগম বাদী হয়ে বরগুনা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

স্কুলছাত্রী চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং কাঁঠালতলী ইউনিয়নে উত্তর কাঁঠালতলী এলাকার মোস্তফা মিয়ার মেয়ে।

স্কুলছাত্রীর বাবা গোলাম মোস্তফা জানান, আজ শনিবার বেলা ২টার দিকে মহাখালী রাসায়নিক পরীক্ষাগারের দিলীপ কুমার সাহা পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি একটি মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন। এর বিনিময়ে তিনি তাঁর মেয়ের ময়নাতদন্তে ধর্ষণের ভালো করে প্রতিবেদন দেবেন। যাতে করে তিনি মামলা করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

স্কুলছাত্রীর বাবা গোলাম মোস্তফার কাছে টাকা দাবি করা নম্বরে (০১৯১৫২৩২০৮৮) একাধিকবার ফোন দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন কাউকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বরগুনার নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে রুজুকৃত মামলার আদেশ এখনো থানায় পৌঁছায়নি। আদালতের আদেশ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কাউকে টাকা দিতে হবে না। এমন কোনো প্রতারক যদি ফোন করে, তবে যেন তাঁরা এড়িয়ে যান।

এদিকে আগামী রোববার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার সময় পাথরঘাটা পৌর শহরের শেখ রাসেল স্কয়ারে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনায় উপযুক্ত বিচার দাবি করে মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন মহিলা পরিষদ, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন এনজিও, সাংবাদিক এবং সচেতন মহল।