• ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মায়ের জন্য কিছুতেই কান্না থামছে না শিশু রাহিয়ানের

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২৪, ২০:১৮ অপরাহ্ণ
মায়ের জন্য কিছুতেই কান্না থামছে না শিশু রাহিয়ানের

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; algolist: 0; multi-frame: 1; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; module: photo; hw-remosaic: false; touch: (-1.0, -1.0); sceneMode: 8; cct_value: 6000; AI_Scene: (200, 2); aec_lux: 126.0; aec_lux_index: 0; albedo: ; confidence: ; motionLevel: 0; weatherinfo: weather?null, icon:null, weatherInfo:100; temperature: 43;

জাকির হোসেন, আমতলী॥ মা জাকিয়া সুলতানার মৃত্যু কোন ভাবে মেনে নিতে পারছে না ছেলে রাহিয়ান ইসলাম (১২)। কিছু ক্ষন পর মা মা বলে ডুকরে কেদে উঠেন আর যেন দৌড়ে বাড়ির আঙ্গিনায় দেওয়া মায়ের কবরের পাশে গিয়ে দাড়িয়ে থাকেন।

বাড়ির সবাই তখন অশ্রু সজল নয়নে রাহিয়ানকে বোঝাতে গিয়েও ব্যার্থ হয়ে ফিরে আসেন। কিছুতেই সে বুঝতে চায়না তার মা না ফেরার দেশে চলে গেছে আর কখনো ফিরে আসবেনা।

মায়ের সঙ্গে রাহিয়ান হারান তার এক মাত্র ছোটবোন খেলার সঙ্গী সাড়ে ৪ বছরের রুকাইদা ইসলাম হৃদিকে। গত শনিবার দুপুরে সেতু ধসে নিহত ৯ জনের মধ্যে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল গ্রামের জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং রহিয়ানের মা জাকিয়া সুলতানা (৩২) এবং ছোট বোন হৃদি নিহত হন।

রবিবার সকালে গুরুদল গ্রামে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জহিরুল ইসলামের বাড়ির আঙ্গিনায় স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা ও মেয়ে হৃদিকে শনিবার রাতেই পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে।

নিহত জাকিয়ার স্বামী জহিরুল ইসলাম জানান, চাকরির জন্য নিজ বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী ছেলে মেয়েকে নিয়ে জামালপুরের একটি কোম্পানিতে বিভাগীয় বিক্রয় প্রতিনিধির চাকুরী করি।

ভাইয়ের মেয়ে হুমায়রার বিয়েতে অংশ নিতে স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা, ছেলে রাহিয়ান ও মেয়ে হৃদিকে নিয়ে শুক্রবার সকালে বাড়ি আসি। শনিবার দুপুরে বৌ-ভাতে অংশ নিতে যাওয়ার সময় সেতু ধসে আমার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা এবং ছোট মেয়ে হৃদি নিহত হন।

কথা বলার সময় জহিরুলের চোখ ছল ছল করছিল আর বলছিল কেন আমি বাড়িতে আসলাম। বাড়ি আসায় আমার স্ত্রী আদরের সন্তানকে হারিয়েছি। এহন আমি কি নিয়া বাচমু।

কাদের জন্য টাকা রোজগার করমু। কাদেরকে খাওয়ামু। রাহিয়ানের (১২) সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। অশ্রু সজল নয়নে বলছিলেন, মাকেতো আর জীবনেও ফিরে পাব না।

মা তুমি কেন আমাদের ছেরে চলে গেলা। কে এখন আমাকে আদর করবে। কে পরতে বলবে। কখনো এখন আর কেই আমাকে আদর করে খাইয়ে দেবে না বলেই ওমা তুমি ফিরে আস বলে কেদে উঠেন আর দৌড়ে গিয়ে মা আর বোনের কবরের সামনে গিয়ে দাড়ান। এসময় রাহিয়ানের কান্না শুনে বাড়ির স্বজনরাও যেন মাতম করতে থাকেন।