আমতলী প্রতিনিধি॥ আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামের প্রবাহমান কালিবাড়ি খালটি নাল দেখিয়ে স্থায়ী ভাবে ভূমি অফিসের গাড়ি চালকের নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
জমি দখলে নিতে গেলে গ্রামবাসী জানতে পেরে বন্দোবস্ত বাতিলের দাবীতে বুধবার সকালে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক নারী পুরুষ।
আমতলী উপজেলা ভূমি অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ সালে ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়ি চালক মো. সোহেল রাঢী এবং তার স্ত্রী সোনিয়া আক্তারের নামে ৩০ শতাংশ খাশ নাল জমি জমি স্থায়ী ভাবে বন্দোবস্ত প্রদান করেন।
বন্দোবস্ত পাওয়ার দীর্ঘদিন পর সোহেল বুধবার জমি দলে নিতে ৩-৪ জন শ্রমিক নিয়ে কালিবাড়ি গ্রামে যান। খাল নাল দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেওয়ার খবর জানতে পেরে তাকে গ্রামবাসী জমি দখলে নিতে না দিয়ে সেখান থেকে তারিয়ে দেন।
জমি বন্দোবস্ত পাওয়া মো. সোহেল রাঢীর স্থায়ী বাড়ি বশিাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের লাকুটিয়া গ্রামে তার বাবা মৃত আব্দুর রহিম রাঢী।
অস্থীয় ঠিকানা দেখিয়েছে জমি বন্দোবস্ত পাওয়া কালিবাড়ী গ্রাম। সরেজমি ঘুরে দেখা গেছে, আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি গ্রামে কালিবাড়ি খালটি অবস্থিত।
বর্তমানে খালটি প্রবাহমান অবস্থায় রয়েছে। এই খালের দুই পাড়ে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে।
গ্রামের বাসিন্দারা এই খালের পানি ব্যবহার করে কুষি জমিতে সেচ, গ্রামবাসী গোসল রান্নাসহ সকল কাজে ব্যবহার করছে। বুধবার সকালে বন্দোবস্ত পাওয়া সোহেল রাঢী খালটি নিজের দখলে নিতে ৩-৪ জন শ্রমিক নিয়ে খালটিতে বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেন।
গ্রামবাসী এভাবে খালে বেড়া দিতে দেখে জড়ো হন এবং সোহেলের নিকট জানতে পারেন এটি স্থায়ীভাবে বন্দোাবস্ত দেওয়া হয়েছে একথা শুনে কালীবাড়ী গ্রামের শতাধিক নারী পুরুষ প্রতিবাদ শুরু করেন ।
এবং তারা বিক্ষোভ করে আমতলী উপজেলা পষিদ চত্ত্বরে এসে অবস্থান কর্মসূচী পালন শুরু করেন। তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী তার কার্যালয় থেকে নেমে এসে ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে এবং তাদের শান্ত করেন।
কালীবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো.মোমেন আকন জানান, কালিবাড়ী খালটি প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুওে বিস্তৃত। খালটি বর্তমানে প্রবাহমান অবস্থায় রয়েছে।
এই খালের দুই পাড়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষের বসবাস। গ্রামবাসী এই খালের পানি তাদেও নিত্য দিনের কাজে ব্যবহার করে।
প্রবাহমান খালটি নাল দেখিয়ে স্থায়ী ভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ায় এলাকাবাসী মারাত্মক ভোগান্তিতে পরবে। আমরা এই খালের বন্দোবস্ত বাতিলের দাবী জানাই।
কালীবাড়ী গ্রামের কৃষক মো. হাবিবুর রহমান জানান, এই খালের পানি দিয়ে আমরা জমিতে সেচ দিয়ে থাকি। প্রবাহ মান খাল এভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ায় দখলের কারনে পানি পাব না।
পানির অভাবে আমাদের কৃষকের সেচ কাজ বন্দ হয়ে যাবে। কালীবাড়ী গ্রামের গৃহবধূ খাদিজা বেগম বলেন, এই খাল দখল অইয়া গেলে মোরা নামু কুমে। থাল ভান্ডবাডি ধুমু কুম্মে।
মোরা এই খাল বন্দোবন্ত বাতিলের দাবী জানাই। ভূমি অফিনের অস্থায়ী গাড়ি চালক বন্দোবস্ত পাওয়া জমির মালিক মো. সোহেল রাঢী জানান, বুধবার সকালে ৩-৪ জন শ্রমিক নিয়ে আমার জমিতে মাছ চাষের জন্য জাল দিয়ে বেড়া দেওয়ার জন্য গেলে গ্রামবাসী আমাকে বেড়া দিতে দেয়নি।
বিষয়টি আমি আমার উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, জমি বন্দোবস্ত দেওয়া বিষয়টি আমি শুনেছি এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে প্রয়োজনে জমির বন্দোবস্ত বাতিল করা হবে।