বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরগুনার পাথরঘাটায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে প্রায় ২০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। গুরুতর আহত ৩ জন হলেন, আবুল কালাম, আমেনা ও কারিমা তাদের দ্রুত বরিশাল মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা গ্রামের বাসিন্দা। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের পদ্মা, রুহিতা ও হাড়িটানা এলাকায় একটি সাদা-কালো বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়িয়ে মানুষের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।
পদ্মা এলাকার বাসিন্দা হিরু জমাদ্দার জানান, তাদের পরিবারের তিনজনকে কামড় দেওয়ার পর কুকুরটি হাড়িটানার দিকে চলে যায়।
হাড়িটানা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাহিন জানান, তার চাচা আবুল কালামের ওপরও একই কুকুরটি হামলা চালায় এবং তার গালের মাংস ছিঁড়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
আহত আবুল কালাম জানান, তিনি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ করে একটি কুকুর তার ওপর আক্রমণ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি আবার সেখান থেকে চলে যায়।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় ভুক্তভোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাখাল বিশ্বাস জানান, সকালে সদর ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২০ জন রোগী কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বরিশালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস জানান, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কুকুর নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগসহ মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ জরুরি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দ্রুত বৈঠক করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।