• ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

চিরকুট লিখে স্বামীর অত্মহত্যা

বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পরে চলে গেলাম

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৪, ২০:০১ অপরাহ্ণ
বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পরে চলে গেলাম

আমতলী প্রতিনিধি॥‘ বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পরে চলে গেলাম’ চিরকুট লিখে শুক্রবার রাতে এক কিন্টার গর্টেনের খন্ডকালিন শিক্ষকের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। নজরুল ইসলাম (৩২) নামে ও শিক্ষক আমতলীর উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের মো. খালেক খানের ছেলে।

সে আমতলী সদর ইউনিয়নের খলিয়ান নামক স্থানের ছোবাহান বিশ্বাস কিন্টার গার্টেন বিদ্যালয়ে খন্ডকালিন শিক্ষকতা করতেন। পুলিশ নিজ বাড়ির পুকুর পারের আম গাছ থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে শনিবার দুপুরে বরগুনার মর্গে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের খালেক খানের ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৩২) এর সাথে একই গ্রামের দুলাল ভুইয়ার মেয়ে খাদিজা বেগমের সাথে দেড় বছর পূর্বে পারিবাড়িক ভাবে বিয়ে হয়।

তাদের ঘরে দেড় মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পর থেকে আর্থিক অনটন নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বাগবিতন্ডা হত। প্রতিবেশীরা এ নিয়ে একাধিক বার সালিশ বৈঠকও করেছেন।

শুকবার দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে সাংসারিক কাজ করার পর বিকেলে ঘর থেকে বের হয়ে রাতে আর ঘরে ফিরেনি নজরুল। অনেক জায়গায় খোজ করে তাকে আর পাওয়া যায়নি।

শনিবার সকাল ১০টার সময় ওই বাড়ির এক কিশোর পুকুর পারের আম গাছের প্রায় ২০ ফুট উপরে নজরুলের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়।

সে ডাক চিৎকার দিলে বাড়ির লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দুপরের সময় তার লাশ উদ্ধার করে। এসময় তার পরনের গেজ্ঞির পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে। চিরকুটে লেখা ছিল ‘ বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পরে চলে গেলাম’।

এ নিয়ে এলাকায় এক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। নজরুল আমতলী সদর ইউনিয়নের টিয়াখালী গ্রামের খলিয়ান নামক স্থানে ‘টিয়াখালী ছোবহান বিশ্বাস’ নামে একটি কিন্টার গার্টেন স্কুলে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করতেন।

প্রতিসপ্তাহে তিনি বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন। নজরুলের স্ত্রী খাদিজা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, আমার সাথে তার মনোমালিন্য ছিল না কিন্ত কেন এভাবে চিরকুট লিখে চলে গেল জানিনা।

একথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। নজরুলের বাবা খালেক খান কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বাবার কি অসুবিধা ছিল আমি কিছুই জানি না যে তাকে মরতে হবে।

টাকা লাগলে আমি দিতাম তারপরও বাবা কেন তুই মইর‌্যা গেলি ও আমার বাবারে তুই ফির‌্যা আয়। কথা গুলো বলছিলেন আর বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী শাখওয়াত হোসেনতপু বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনার মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি নিহত নজরুলের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধারের কথা স্বীকার করে বলেন, সেটি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।