• ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বাল্যবিয়ের প্রভাবে বেড়েছে নির্যাতন আত্মহত্যা

admin
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০১৯, ১৩:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বাল্যবিয়ের প্রভাবে জেলার সর্বত্রই প্রতিদিন নির্যাতন ও আত্মত্যার প্রবনতা বেড়েই চলেছে। গত চারদিনে শুধুমাত্র আগৈলঝাড়া উপজেলায় বাল্যবিয়ের শিকার এক গৃহবধুর আত্মহত্যা, একজনকে হত্যার অভিযোগ এবং অন্য দুই গৃহবধু নির্যাতনে শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ বাগধা গ্রামের দাউদ হাসান মিয়ার সাথে গত আট মাস আগে বাল্যবিয়ে হয় উজিরপুরের সাতলা গ্রামের নান্নু পাইকের কিশোরী কন্যা নারগিস আক্তারের (১৭)। দাউদ মিয়া কর্মের সুবাধে ঢাকায় থাকার সুযোগে শ্বশুর পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেছে নারগিস আক্তার। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গতকাল শুক্রবার সকালে মর্গে প্রেরণ করেছেন। নারগিসের বাবা অভিযোগ করেন, তার কন্যাকে শারিরিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। সূত্রমতে, উপজেলার হাওলা গ্রামের খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী জ্যাকব বাইনের কন্যা ডেইজী বাইনকে (১৭) গত দুই মাস পূর্বে একই উপজেলার রাজিহার গ্রামের অসিম সরকারের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বাল্যবিয়ের শিকার ওই ছাত্রীর সাথে দাম্পত্য কলহের জেরধরে ২৪ মার্চ ভোর রাতে ডেইজী বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। অপরদিকে গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের জামাল বালীর কন্যা সুমাইয়া আক্তারকে (১৬) অতিসাম্প্রতি বাল্যবিয়ে দেয়া হয়। পারিবারিক কলহের কারনে গত বুধবার বিকেলে অভিমান করে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরী সুমাইয়া। একইদিন শ্বাশুরির শারিরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের খাজুরিয়া গ্রামের প্রবাসী ইমরান মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। মুমূর্ষ অবস্থায় তাদের দুইজনকেই উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেলেই পুলিশ তা প্রতিহত করে দেয়। নির্যাতনের শিকার অধিকাংশ কিশোরী বধূ বা তার পরিবার থেকে ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়না। জানালে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। প্রশাসনের সাথে অভিভাবকদের আরও তৎপর হওয়া উচিত। স্বেচ্ছাসেবী এনজিও টিপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন, গত কয়েক মাসে জেলার সর্বত্র বাল্যবিয়ের প্রবনতা আশংকাজনক হাতে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন পাঁচটি এবং ওই উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলা একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে উপজেলা প্রশাসন। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের রির্পোটে প্রায় প্রতিদিনই জেলার দশটি উপজেলায় বাল্যবিয়ে হওয়ার খবর উঠে আসছে। বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হলে আইন করে শুধুমাত্র বিয়ের ক্ষেত্রে নোটারী পাবলিকের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।