• ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশাল নগরীর মোড়ে মোড়ে মৌসুমি কসাই

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০১৯, ২৩:১৯ অপরাহ্ণ
বরিশাল নগরীর মোড়ে মোড়ে মৌসুমি কসাই

বিজয় দাস ॥ রাত পোহালেই ঈদুল আজহা , এরই মধ্যে বরিশালে মৌসুমি কসাইদের সংখ্যা বেড়েছে। শহরের পথে পথে চলছে দর কষাকষি। গরুর দাম এর ওপর তাদের শ্রমের রেট নির্ধারণ হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে তাদের দর পেশাদার কসাইয়ের চেয়ে অনেকাংশেই কম।

রোববার (১১ আগস্ট) বরিশালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, মাছ বিক্রেতা, হোটেলের মেসিয়ার, কলকারখানার শ্রমিকসহ তাদের একটি অংশ কোরবানির দিন মৌসুমি কসাইয়ের কাজ করেন। গরু বানিয়ে (জবেহ, মাংস কাটা) দিয়ে কিছু অর্থ ও মাংস সংগ্রহ করা তাদের লক্ষ্য।

এদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গরু কোরবানির সামর্থ্য তাদের নেই। তাই পরিবারের জন্য ঈদের দিন কাজ করে কিছু মাংস সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা মৌসুমি কসাইয়ের কাজ করেন।

তালতলা বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. দোলন বিডি ক্রাইমকে বলেন, প্রতিবছরই কোরবানির ঈদে গরু বানাই। আমরা চার পাঁচ জন মিলে সারাদিনে চার থেকে পাঁচটি গরু বানিয়ে দেই। এতে কিছু অর্থ উপার্জন হয় এবং যাদের গরু বানিয়ে দেই তারা খুশি হয়ে আমাদের মাংস দেন। পরিবারের জন্য সেই মাংস নিয়ে ঈদের দিন সন্ধ্যায় বাড়ি যাই।

নিজ এলাকায় কোরবানির মাংস পাওয়া যায় না, তাই প্রতিবছর কোরবানির দিন কসাইয়ের কাজ করে যেটুকু মাংস পান তা নিয়ে বাড়ি যান বলে জানালেন কাশিপুরের রিক্সা চালক নাহিদ মিয়া। তিনি বিডি ক্রাইমকে বলেন, সারাদিন কসাইয়ের কাজ করে যে মাংসটুকু পাই তা আমারই এক আত্মীয়র বাসায় নিয়ে ফ্রিজে রাখি। পরদিন মাংস নিয়ে ভোলায় যাই। বাড়ি দূরে হওয়ায় মাংসটা বরফ করে নিয়ে যাই। তবে যাদের গরু বানিয়ে দেই তাদের সঙ্গে টাকা নিয়ে কোনো দর কষাকষি হয় না। তারা খুশি হয়ে যা দেন তা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।

কোরবানির দিন যেখানে পেশাদার কসাই একটি কোরবানির গরু কাটতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নেয়। সেখানে মৌসুমি কসাইদের ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিলেই কাজ করে দিচ্ছেন। সঙ্গে কয়েক কেজি কোরবানির মাংস দিলে তারা অনেক খুশি।

হাটখোলার একজন পেশাদার কসাই বিডি ক্রাইমকে বলেন,আমাদের বানানো মাংস আর অপেশাদার কসাইয়ের বানানো মাংসের মধ্যে রাত দিন পার্থক্য রয়েছে। আমরা কৌশল করে হাড্ডি থেকে মাংস আলাদা করি এবং হাড়গুলো অত্যন্ত সুন্দর করে বানানো হয়। এক্ষেত্রে চামড়া নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তাই তাদের চেয়ে আমাদের রেটটা একটু বেশি।

কোরবানির ঈদ আসলেই বেড়ে যায় কসাইদের কদর। এ সময় পেশাদার কসাইয়ের পাশাপাশি মৌসুমি কসাইদের কদরও বেড়ে যায়। অনেকে ভালো কসাই না পেয়ে মৌসুমি কসাইদের কাজে নিতে বাধ্য হন।

জানা যায়, কোরবানি ঈদে বরিশালের প্রায় ৮০ হাজার পশু জবাই হয়। তাই ঈদের সময় এত বিপুল সংখ্যক পশু জবাই হওয়ায় পেশাদার কসাইদের দিয়ে পশুর চামড়া ছাড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে এ সময় বেড়ে যায় মৌসুমি কসাইদের চাহিদা।

এদিকে অদক্ষ কসাইয়ের কারণে প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে দক্ষ কসাই দিয়ে গরু বানানো উচিত। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে চামড়া শিল্প।