• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

চরফ্যাশনের ঢালচরে তারুয়া সমুদ্র সৈকত পর্যাটকদের উপচেপড়া ভীড়

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০, ১৭:৩৪ অপরাহ্ণ
চরফ্যাশনের ঢালচরে তারুয়া সমুদ্র সৈকত পর্যাটকদের উপচেপড়া ভীড়

আমির হোসেন, চরফ্যাশন ॥ পাখিদের অভয়ারণ্যখ্যাত, লাখ লাখ লাল কাঁকড়ার বিচরণে মনকাড়া দৃশ্য চরফ্যাশন উপজেলা বিচ্ছিন্নদ্বীপ ঢালচরের তারুয়া সমুদ্র সৈকত তারুয়া পর্যটকদের ভীড়। মনকাড়া স্থানে যে যার মত অবস্থান করায় কমে গেছে লাল কাকঁড়া। চরটিতে পাখিরাও স্বস্তিতে বিচরণ করতে পারছে না।

 

প্রাকৃতিক জীব বৈচিত্রের পাশাপাশি পাখিদের অভয়ারণ্য রক্ষায় এ চরটিতে পর্যটকের ভ্রমনে সরকারি কোন নির্দেশণা নেই। নেই কোন বিধি-নিষেধ। ফলে অস্কুরেই প্রকৃতির আরেক সৌন্দর্য তারুয়া সমুদ্র সৈকত নৈসর্গিক দৃশ্য হারাতে বসেছে পুরো বাংলাদেশের মানুষ। পর্যটকরা চরটিতে গিয়ে যে যার মত সৌন্দর্য উপভোগ করলেও ভোগছে নিরাপত্তাহীনতায়। চরফ্যাশন ৩ ফেব্রুয়ারী সোমবার পূর্ববাজার প্রগতিপাড়ার অনিবান সংসদ এর পক্ষ থেকে পৌর যুবলীগ সেক্রেটারি মিজানুর রহমান এর নেতৃত্বে ৬০/৭০জন নিয়ে তারুয়া সমুদ্র সৈকতে বেশ আনন্দ উপভোগ করছেন। এত সৌন্দর্য বন্ধন স্থান হলে পর্যটকরা ধাওয়া করছে কাঁকড়া ধরার জন্য। ফলে অনেকে লাল কাঁকড়া ধরে নিয়ে আসছে অনেকের ধাওয়া মারা পড়ছে। পাখিরা নির্বিঘেœ বিচরণ কিংবা অবস্থান করতে না পারায় তারুয়া সৈকতে অপূর্ব দৃশ্য হুমকির মুখে।

 

১৯৬৫সাল থেকে জেগে উঠা চরফ্যাশন শহর থেকে প্রায় ৩৫কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্ন এ চরটি ঢালচর ভেঙ্গে পুর্ব ঢালচর হিসাবে পরিচিত হলেও এটির তারুয়া সমুদ্র সৈকত নাম করণ করেন স্থানীয় সাংসদ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। চরটি সৌন্দর্য্য ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যটক দর্শনার্থীদের ভ্রমনে নিয়ে যেতে শুরু করেন। পর্যটকরা কাছ থেকে ছবি তোলা বিধি নিষেধ না থাকায় সৌন্দর্য্য বন্ধন হারিয়ে যেতে বসেছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতামত পাখি কিংবা কাঁকড়া তাঁদের মতো কওে তাদেরকে থাকতে দিতে হয়। পর্যটকরা সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে ওই চরের যাত্রীযাপন ও করছেন। ফ্রি-স্টাইলে পর্যটক-দর্শনার্থীকে নিযে রাখা খুবই বিপজ্জনক। সরকার পরিকল্পিতভাবে ট্যুরিস্ট ভ্রমনের উপযোগী হিসেবে ঘোষণার আগেই পযটকরা বিপদের সম্মুখীন হলে এর দায় নিবে কে।

 

ওই ঢালচর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস সালাম হাওলাদার বলেন, সারা বছরেরই পর্যটকরা তারুয়া সমুদ্র সৈকত যায়। শীত শুরু হলে তো পর্যটদের ভীরে মুখোরিত থাকে ওই চরটিতে। এরা সবাই আমাকে দৃষ্টাব করে। আমি নিরাপত্তার স্বার্থে ওই স্থানে একটি ঘর করে ব্যক্তি উদ্যোগে একজন বেতন ভুক্ত লোক রেখে পর্যটকদের থাকার সামান্যতম সুযোগ সৃষ্টি করছি। কমপক্ষে তারা এখানে এসে ভয় যাতে না পায়। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন এলাকা ঘোষনা দিয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা করা একান্ত দরকার। দেশ-দেশান্তর থেকে এই তারুয়া সৈকতে পর্যটকেরা ঘুরতে আসে।

 

পর্যটকেরা এক গেলে বার বার আসতে মন চায়। চারদিকে যতদুর চোখ যায় শুধু সাগরের অথৈ জলরাশি। তারই মাঝখানে নয়ন ভোলানো এই বিশাল চর। যেন কুয়াকাটা ও কক্সবাজারকে হার মানায়। লাল কাঁকড়া দৌড়াদৌড়ি,পাখির জাঁক সাগরের ঢেউ এক স্মৃতিময় মনকাড়া সুন্দরের দৃশ্য। আবার মানুষের পদচারণায় মুহুর্তেই কাঁকড়াদের গর্তে লকানো। অনুমানিক দক্ষিণ থেকে দৈর্ঘ্য দেড় থেকে দুই কিলোমিটা পশ্চিম থেকে পূর্বে প্রস্থ্য প্রায় ১কিলোমিটার। আবার ১ থেকে দেড় কিলোমিটার নদীর পর আবার বিস্তিত এলাকা নিয়ে আরেকটি চর জেগে উঠেছে।

 

চেয়ারম্যান সালাম বলছেন সকল চরগুলো ফরেস্টরা দখল করে রাখছে। হাজার হাজার ভাঙগন কবলিত মানুষগুলো ওই চরে বসবাস করতে পারে। সরকার সেদিকেও বিবেচনা রাখতে পারে। যদি গভীর থাকতো তাহলে জেলেদেরকে কোন দিন ওই সৈকত থেকে ফিরাতে পারতো না।