বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ ভোলা শহরের উকিলপাড়া এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার মিতু (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত মিতুর চাচাতো ভাই মো. রাহাত। এর আগে শুক্রবার নিহত মিতুর বাবা মো. বশির আহমেদ বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন মিতুর স্বামী সোহাগ, শাশুড়ি কোহিনূর বেগম, ননদ লিজা আক্তার ও মুক্তা বেগম। এ ছাড়া মামলায় আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর এলাকার বাসিন্দা বশির আহমেদের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারাতে হয়েছে মিতুকে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার আগের রাতে মিতু তাঁর ছোট বোনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তিনি বিভিন্ন সময় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও পরিবারের সদস্যদের জানান।
পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিতুর স্বামী ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে মিতুর মা সেখানে গিয়ে ঘরের ভেতর খাটের ওপর মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।