• ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

চরফ্যাশনে অনুমোদনহীন বেসরকারী ক্লিনিক চিকিৎসাসেবায় অনিরাপদ রোগীদের জীবন

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৬, ১৯:০০ অপরাহ্ণ
চরফ্যাশনে অনুমোদনহীন বেসরকারী ক্লিনিক চিকিৎসাসেবায় অনিরাপদ রোগীদের জীবন

আমির হোসেন, চরফ্যাশন॥ চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংস্কার ও চরফ্যাশন উপজেলার প্রাইভেট বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একের পর এক ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীদের নিরাপদ সুচিকিৎসা নিশ্চিতের দাবি করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের নাগরিকগণ।

এর আগে ১৭ দফা দাবিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র-জনতা। তাদের কয়েকজন অভিযোগ করেন , গত দুই সপ্তাহেও চরফ্যাশনের প্রাইভেট ক্লিনিক ইকরা হাসপাতালে গর্ভবতী নারী ও মমতা ক্লিনিকে নবজাতক শিশু ও সৌদিয়া ক্লিনিকে নবজাতক শিশু মৃত্যুর পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

এর আগে গত ১১মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক মাতাব্বর চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ করেন।

নোটশে তিনি উল্লেখ করেন আগামী ৭কর্ম দিবসের মধ্যে উপজেলার অবৈধ সকল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অবৈধ বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান।

পাশাপাশি কোনোরকম প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়া হলে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করবেন বলেও ওই আইনজীবী নোটিশে উল্লেখ করেন।

সূত্রে জানা গেছে ৭কর্ম দিবস শেষ হলেও উপজেলার ৩৬টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ১২ ক্লিনিকের মধ্যে একটিতেও কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সম্প্রতি ছাত্র জনতার ব্যানারে শিক্ষার্থীরা চরফ্যাশনের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে ১৭ দফা প্রস্তাব ঘোষণা করেন। ডাক্তারদের সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ডিউটি করতে হবে এবং রোস্টার অনুযায়ী ডিউটি পালন করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে ডায়াগনস্টিকের দালাল ফার্মেসির দালাল ডাক্তারের ব্যক্তিগত দালালসহ সকল ধরনের দালাল মুক্ত করতে হবে। সরকারি হাসপাতালের ১ কি.মি. এর ভিতরে কোনো ডায়াগনস্টিক থাকতে পারবে না।

ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট সময় ব্যতিত হাসপাতালে ডাক্তারদের সাথে দেখা করতে পারবে না, এবং রোগীর প্রেসক্রিপশন এর ছবি তুলতে পারবে না। হাসপাতালে এক্সরে আল্ট্রাস্নোগ্রাম ও প্যাথলজিক্যাল টেস্ট ২৪ ঘন্টা করতে হবে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অন্য উপজেলায় পরিবর্তন করতে হবে।

এ ১৭ দফার কোনোটিই বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজন জানান। রোগীরা বলেন,চরফ্যাশন উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে একাধিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের নেই কোনো অনুমোদন।

হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত থাকেননা আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এসকল হাসপাতালগুলোতে গর্ভবতীরা আসলে তাদের দেয়া হয়না প্রেসক্রিপশন।

মৌখিকভাবে দেয়া হয় সেবা। অনেক হাসপাতালে নেই মিডওয়াইপ ও নার্স। আয়া বুয়া দিয়েই চলে গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের সেবা। যার ফলে ভুল চিকিৎসায় ঝরে যায় গর্ভবতী মা ও শিশুর জীবন।

এছাড়াও ডায়াগনস্টিকগুলোতেও নেই ল্যাব টেকনলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান। যাকে তাকে দিয়ে চলে ল্যাব পরীক্ষা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ফজলুর রহমান বলেন, অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না।

শিক্ষক শফিউল্লাহ বলেন, সরকারি হাসপাতালে সুচিকিৎসা সেবা দেয়া হলে সাধারণ রোগীরা ডায়াগনস্টিক বা বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার জন্য যাবে না।

সরকারি হাসপাতালের যারা চাকরি করেন তারা নির্দিষ্ট সময় হাসপাতালে ডিউটি করেন না। পাশাপাশি কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে গেলেই তাদেরকে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বা পরীক্ষার কাগজ হাতে ধরিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার নির্দেশনা দেন। এসব কর্মকান্ড বন্ধ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.শোভন কুমার বসাক জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক গুলো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

ভুল চিকিৎসায় কেউ মারা যাক এটা কাম্য নয়। প্রশাসনের সহায়তা পেলে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এমাদুল হোসেন বলেন,ইকরা হাসপাতালে গর্ভবতী মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করা হয়েছে এবং হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সৌদিয়া হাসপাতালের সার্জিক্যাল অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।