বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যেই বরিশাল বিভাগজুড়ে একাধিক পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ছয়জন নারী রয়েছেন। এসব ঘটনায় আত্মহত্যা, পানিতে ডুবে মৃত্যু, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার, সড়ক দুর্ঘটনা ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার (২২–২৪ মার্চ) পর্যন্ত বরিশাল নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে মানুষজন গ্রামের বাড়ি ও আত্মীয়স্বজনের কাছে যাতায়াত করলেও একই সময়ে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদী থেকে শিশির (৩৪) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। তিনি গৌরনদী উপজেলার পূর্ব ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশের ধারণা, নদীতে পড়ে তার মৃত্যু হতে পারে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশ চলাকালে খোরশেদ সিকদার (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কলসকাঠি ইউনিয়নে সুমি আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই উপজেলার আরেক ঘটনায় বিলকিস বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ইউনিয়নের একটি ডোবা থেকে অর্ধগলিত অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তে চেষ্টা চলছে।
গৌরনদী উপজেলার পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশু খেলার সময় পরিবারের অজান্তে ডোবায় পড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া বরগুনার তালতলী উপজেলায় যৌতুক নির্যাতনের অভিযোগে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই গৃহবধূ মারা গেছেন। তবে পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
লালমোহন উপজেলায় বিদ্যুতায়িত হয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তি তার মামাকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন বলে জানা গেছে। অপরদিকে মঠবাড়িয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া বানারীপাড়া উপজেলায় এক মুদিদোকানিকে গলা ও হাত বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব ঘটনায় একাধিক অপমৃত্যু ও হত্যা মামলা হয়েছে। কিছু ঘটনায় তদন্ত চলছে, আবার কিছু ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।
ঈদের ছুটির সময়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিটি ঘটনারই পৃথকভাবে তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।