• ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বরিশালে নাজির আওলাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, মামলার পরও অপ্রতিরোধ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬, ২০:৪৭ অপরাহ্ণ
বরিশালে নাজির আওলাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, মামলার পরও অপ্রতিরোধ্য!

বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ক্যাশিয়ার কাম নায়েব নাজির মো. আওলাদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে ফের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভূমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে দ্বিতীয় আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের পর আওলাদ হাওলাদারকে অভিযুক্ত করে পুলিশ আদালতে শার্জশিট দাখিলের পর ঐ সকল মামলায় জামিন নিয়েছেন তিনি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আওলাদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বহাল তবিয়তে চেয়ারে বহাল আছেন এখনও। অভিযোগ রয়েছে আওলাদ একই জেলার বাসিন্দা হয়েও দীর্ঘদিন নিজ জেলাতেই চাকরি করে বিচার বিভাগের বিভিন্ন কোর্টে কর্মরত স্বজনদের নিয়ে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

 

উত্তর চরকরঞ্জী এলাকার মৃত আফতার আলী হাওলাদারের ছেলে মো. ফজলুল হক (৬২) গত ২৭ মে ২০২৫ তারিখে বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(ক), ৫, ৭, ১০ ও ১৬ ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৪৩/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সিআর মামলা নং-১৪৯/২৫। এছাড়া একই বছরের ২৯ মে মোকাম বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় নায়েব নাজির আওলাদ হাওলাদারকে দ্বিতীয় আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন উত্তর চরকরঞ্জী এলাকার মৃত আছমত আলী হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার (৪৩)। ওই মামলার নম্বর-১০০১/২৫।

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর জামিন নিয়ে মো. আওলাদ হাওলাদার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আদালতের নায়েব নাজির পদে থাকার প্রভাব দেখিয়ে তিনি প্রকাশ্যে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে মুখ খুললে মিথ্যা মামলা ও হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। এদিকে ন্যায়বিচারের দাবিতে গত ২৯ জানুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ বরাবর ‘ন্যায়বিচার দাবির নোটিশ’ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. ফজলুল হক হাওলাদারের পক্ষে নোটিশটি পাঠান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ব্যারিস্টার আবুল বাশার টুটুল।

 

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সিআর মামলা নং-১৪৯/২৫ এ অভিযোগপত্র গ্রহণ ও চার্জশিট দাখিলের পরও সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী নায়েব নাজির মো. আওলাদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে এখনো কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। জানা গেছে, মো. আওলাদ হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল জেলাতেই কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, একই জেলার বাসিন্দা হয়েও বিধি লঙ্ঘন করে তিনি নিজ জেলাতেই চাকরি করে আসছেন এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন কোর্টে কর্মরত তার স্বজনদের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন।

 

 

 

অভিযোগ অনুযায়ী, তার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের মধ্যে রয়েছেন নাজির কামরুল ইসলাম, পেশকার মো. লিটন, জারীকারক কামাল হোসেন, বাবুর্চি এনামুল এবং নাইটগার্ড সোহেল। এদের সকলের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার ৭নং চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠী গ্রামে। এরা প্রত্যেকেই বরিশালের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত এবং একে অপরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর পূর্ব কর্ণকাঠী এলাকার বাসিন্দা মৃত আব্দুল বারেক মৃধার ছেলে মো. স্বপন মৃধা আইন ও বিচার বিভাগ সচিব, যুগ্ম সচিব (প্রশাসন-১), রেজিস্ট্রার জেনারেল-১,২ ৩,বরিশাল সিনিয়র সহকারী জজ সদর আদালত, সিনিয়র সহকারী জজ বাকেরগঞ্জ আদালতের বিচারক, বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ), বরিশাল অতিরিক্ত জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক, বরিশাল অতিরিক্ত জেলা জজ প্রথম আদালত এর বিচারক সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

 

 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আশরাফ উদ্দিনের স্বাক্ষরে স্মারক নং সি এম এম বরি সাঃ/২০২৩-২৩৫ একটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সাক্ষ্য প্রদানের দিন ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান অভিযুক্তরা।

 

একই বছরের ১৯ নভেম্বর পূর্ব কর্ণকাঠী ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জেলেম কাজির ছেলে মো. আলতাফ কাজি (৭১) এবং মো. রত্তন আলী খানের ছেলে শফিকুল আলম হক এ খান (২৮) নায়েব নাজির আওলাদ হাওলাদার ও বিচার বিভাগে কর্মরত তার স্বজনদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরির শুরু থেকেই একই জেলায় কর্মরত থেকে আদালতের ভেতরে ও বাইরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন আওলাদ হাওলাদার ও তার স্বজনরা।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নায়েব নাজির মো. আওলাদ হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।