• ৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাওয়া: বোন মাসুমা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত মে ১৭, ২০২৬, ১৯:০৪ অপরাহ্ণ
হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাওয়া: বোন মাসুমা

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি।

রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সদররোডে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম নিধন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করে ‘বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থী’।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বলেন, বিভিন্ন রাজনীতিবিদরা টকশোতে গিয়ে ডিপ স্টেটের কথা বলে, আসলে ডিপ স্টেট কী? এটা জনগণকে পরিষ্কার করতে হবে।

সেলিবেট্রিরা, রাজনীতিবিদরা টকশোতে গিয়ে যে বলে ডিপ স্টেট হত্যা করেছে, এই হত্যার বিচার হবে না। রাজনীতিবিদদের কাছে থেকে এটা দেশের ১৬ কোটি জনগণ শুনতে চায়না।
তারা শুনতে চায়, হাদি হত্যার বিচার করেই ছাড়বো, হাদি হত্যার বিচার হতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাওয়া, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ভূলুণ্ঠিত হওয়া।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হলে ওসমান হাদির বিচার বাংলার জমিনে করতেই হবে।
মাসুমা হাদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছেন। কিন্তু আমরা দেখলাম, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেও ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেননি। এই প্রশ্ন শুধু আমার না, পুরো বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হওয়া মানে বাংলাদেশ হেরে যাবে, জুলাইয়ের বিজয় হেরে যাবে। জুলাই সনদ নিয়ে এখন যে টালবাহানা চলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা মানে ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ওসমান হাদি হত্যার বিচার না করে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে মানুষকে ভুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

মাসুমা হাদি বলেন, আমরা এখন শুধু বিচার চাইতে আসিনি। দেশের ১৭ কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ওসমান হাদির বিচার আদায় করে নেব। ওসমান হাদি কারও একার না, কোনো দলেরও না। ওসমান হাদি মানেই বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদি শিখিয়ে গেছে কীভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে অস্ত্র ছাড়া আন্দোলন করতে হয়, কীভাবে দাবি আদায় করে নিতে হয় এবং কীভাবে ইনসাফের পক্ষে থাকতে হয়। আমরা কাউকে ভয় পাই না।

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ সকালে আমার হোয়াটসঅ্যাপে কেউ একজন আমাকে এই প্রোগ্রামে যোগ না দিতে বলেছে। আমাকেও গুলি করে হত্যা করা হতে পারে, যাতে ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে কেউ আওয়াজ না তোলে।

মাসুমা হাদি বলেন, আমি ওসমান হাদিকে আঙুল ধরে হাঁটতে শিখিয়েছি। আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমি মরে গেলেও আপনারা ওসমান হাদির বিচার আদায় করে ছাড়বেন।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।