বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ সময় সংবাদে প্রচারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বরিশালের ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজের বিরুদ্ধে ওঠা লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ স্ব-প্রনোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
জালিয়াতির ঘটনাটি তদন্ত করে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৭ মে) জনস্বার্থে স্বপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে এই আদেশ দেন বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ। আদালতের নির্দেশনায় এই ঘটনাটিকে একটি ‘মিস কেস’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বরিশালের নাজির কামরুল আহসান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে সময় সংবাদের বরিশাল ব্যুরো প্রধান অপূর্ব অপু “বরিশালে নার্সিং প্রশিক্ষণের নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ” শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করেন।
সেই প্রতিবেদনে ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজের ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র উঠে আসে। সংবাদটি আদালতের দৃষ্টিগোচর হলে বিজ্ঞ বিচারক স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আইনি পদক্ষেপ নেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সময় সংবাদে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের নাম ভাঙিয়ে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ডিডব্লিউএফ নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার নিয়ে এমন জালিয়াতি এবং বিপুল অর্থ আত্মসাতের এই ঘটনাটি দেশের প্রচলিত আইনে একটি গুরুতর ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে পুরো বিষয়টি বরিশাল মহানগর পুলিশের একজন উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বরিশালের নাজির কামরুল আহসান জানান, ‘সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে উপ-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে এই জালিয়াতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে জানতে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।