বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল ॥
তিনি বলেন, ‘কোথাও প্রদর্শনীর অনুমতি দিতে চায় না প্রশাসন। প্রদর্শনীর অনুমতি না পেয়ে বসে থেকে আমাদের সব উপকরণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারণ সার্কাসের বেশিরভাগ উপকার লোহার তৈরি। তাছাড়া আমাদের বিশাল একটি টিম। প্রদর্শনী না থাকলে এতগুলো মানুষ বসে বসে খাওয়া অনেক খরচের ব্যাপার। এখন কোনোমতে খেয়ে-পরে বেঁচে আছি।’
আরও পড়ুন: চম্পাকলিতে টিকে আছে গাজীপুরের সিনেমা ব্যবসা
একই কথা বলেন দি রয়েল বেঙ্গল লক্ষণ দাস সার্কাসের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও। তারা এ শিল্পকে ও শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য সার্কাস প্রদর্শনীর অনুমতির দাবি জানান।
দি রয়েল বেঙ্গল লক্ষণ দাস সার্কাসের পরিচালক অরুণ দাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেই করোনার শুরুতে ঘরে ফেরার পর থেকে বরিশালে এখন পর্যন্ত প্রদর্শনীর কোনো অনুমতি মেলেনি। দুই বছর ধরে বসে থাকায় অনেক উপকরণ নষ্ট হয়েছে। খেলোয়াড়রা বাড়িতে চলে গেছে। অথচ এ সার্কাস বরিশালের একটা ঐতিহ্য। প্রদর্শনীর অনুমতি না মেলায় এখন সেই ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।’
১৯৪৯ সালে গৌরনদীর লক্ষণ দাস দি রয়েল বেঙ্গল লক্ষণ দাস সার্কাস প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে চলে আসছে এই সার্কাস। এখানে ৮৫ জন কলাকুশলী ৪৫ ধরনের খেলা প্রদর্শন করেন। কিন্তু প্রদর্শনী না থাকায় একে একে সবাই বাড়ি চলে গেছেন। এখন দলের সঙ্গে রয়েছেন মাত্র ১১ জন। কাজ না থাকায় তারাও অলস সময় পার করছেন।
একসময় এ অঞ্চলে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল লক্ষণ দাসের সার্কাস। তখন বছরে ২১৬ দিন পর্যন্ত সার্কাসের প্রদর্শনী হয়েছে।
অরুণ দাস বলেন, ‘কোনো মাঠে প্রদর্শনীর অনুমতি মিললে সেখানে আয়োজকরা শুরু করে দেন যাত্রা, জুয়া, হাউজি ও লটারি। আর এসবের কারণে আমাদের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। অথচ এসব কিছুর সঙ্গে আমাদের প্রদর্শনীর কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও ভুক্তভোগী হই আমরা। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, সব কিছু বিবেচনা করে যেন এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সার্কাস প্রদর্শনীর অনুমতি দেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘তারা সার্কাসের নামে যাত্রা, জুয়া, হাউজি ও লটারি চালান। এজন্য এটা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে নিয়মের মধ্যে থেকে অনুমতি চাইলে সার্কাস প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে।’