• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে ৮ মাসে ৬১ জনের আত্মহত্যা

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে ৮ মাসে ৬১ জনের আত্মহত্যা

শামীম আহমেদ ॥ বরিশাল জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ৮ মাসে মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে ৬১ জন আত্বহত্যা করেছে।

জানা গেছে এদের মধ্যে যারা আত্বহত্যা করেছে তাদের ব্যপারে স্থানীয় স্ব স্ব থানা পুলিশ লাশ উদ্বার করা সহ অপমৃত্যু মামলার তদন্তকালে জানতে পেরেছে পারিবারিক কলহ,অশান্তি ও প্রেম সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষপান ও গলায় ফাস লাগিয়ে আত্ব হত্যা করেছে।

জেলার বিভিন্ন থানার ইনচার্জ অফিসারদের দেয়া তথ্য মতে জানা গেছে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত ৮ মাসে ১ জন পুরুষ সহ ৭ জন মহিলা,গৌরনদী উপজেলায় ২৭ জন বিষপান ও গলায় ফাস দিয়ে আত্বহত্যা করেছে।
গৌরনদীর থানার ইনচার্জ অফিসার সরোয়ার বাহিরে থাকার কারনে কতজন মহিলা ও পুরুষ রয়েছে তার সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। থানার দায়ীত্বেরত সেকেন্ড অফিসার তৌহিদুল ইসলাম শুধু ২৭ জনের আত্বহত্যার হিসাব দিতে পেরেছে। দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জে পুরুষ ৪ জন ও ১ মহিলা আত্বহত্যা করেছে।উজিরপুরে পুরুষ ৪ জন ও মহিলা রয়েছে ৩ জন, বানারীপাড়া উপজেলায় ১৬ জন আত্বহত্যা করেছে যার মধ্যে পুরুষ ১০ জন ও মহিলা রয়েছে ৬ জন, বাবুগঞ্জে রয়েছে ২ জন এদের মধ্যে ১ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা রয়েছে,মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ৮ জন মহিলা বিষপান ও গলায় ফাস দিয়ে আত্বহত্যা করেছে,বাখেরগঞ্জে ৯জন আত্বহত্যা করেছে তবে এর ভিতর মহিলা ও পুরুষ কয়জন ছিল তাৎক্ষনিকভাবে হিসাব দিতে পারেনি,কাজিরহাট থানায় যোগাযোগ করা হলে অফিসার ইনচার্জ (সদ্যযোগদানকারী) আনিছুর রহমান জানান তার থানায় ৩টি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে এর মধ্যে ১ জন পুরুষ গলায় ফাস দিয়েছে,অপর এক মহিলা মৃগি রোগী থাকায় পানিতে পড়া ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে,এছাড়া দ্বীপ উপজেলা হিজলা থানা এলাকায় অপমৃত্যুর কোঠা শুণ্য রয়েছে।

এব্যাপারে বরিশাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদ্য এসপি পদন্নত্তি) আঃ রাকিবের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান জেলার ১০ থানায় এপর্যন্ত ৬১টি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

দেখা গেছে অধিকাংশ ঘটনা পারিবারিক কলহ, সংসারে অশান্তি সহ কিছু প্রেম সংক্রান্ত ঘটনা ও মানসিক ভারসাম্যহীনও রয়েছে।

এছাড়া অনেক আত্বহত্যার ঘটনায় পরিবার থেকে কোন প্রকার থানায় অভিযোগ না দেয়ার কারনেই অপমৃত্যু মামলার তালিকায় রয়েছে।

তিনি বলেন অনেক আত্বহত্যার ঘটনা তদন্তকালে দেখা যায় সংসারে অভাব-অনটন, অর্থনৈতিক সমস্যার অশান্তি ছাড়াও কিছু রয়েছে ছেলে মেয়ের প্রেম সংক্রান্ত বিষয় সেখানে দেখা গেছে ছেলে-মেয়েদের ভালবাসা পরিবার থেকে মেনে না নেয়ার কারনে অধিক আবেগ প্রবনতা হয়ে তারা এজীবন রাখবো মনে করে কেহ বিষপান নথুবা গলায় ফাস দিয়ে আত্বহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে এটাও এক প্রকার মানসিক রোগ মনে করেন তিনি।

পদন্নত্তি পুলিশ সুপার আঃ রাকিব মনে করেন এই আত্বহত্যা করা মানসিক সমস্যাগুলো বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন সভা সেমিনার থেকে যদি অবহিত করা হয় তাহলে হয়ত এর সংক্ষা জিরোতে নিয়ে আসা সম্ভব।