বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিনই বাড়ছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। শয্যা সংকটে এক বিছানায় দুই শিশু, এমনকি জায়গা না পেয়ে মেঝেতে চলছে অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা।
সেবা দিতে গিয়েও হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। অথচ এই চিত্র বদলানোর কথা ছিল আরও সাত বছর আগেই। বরিশাল মহানগরীর আমানতগঞ্জে নির্মিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি আজও আলোর মুখ দেখেনি। দফায় দফায় সময় বাড়লেও গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের রশি টানাটানিতে প্রকল্পটি এখন শুধুই এক বিশাল কংক্রিটের স্থাপনা।
গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১০ তলা ভিত্তির ওপর প্রাথমিকভাবে শিশু হাসপাতালটির চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। সাড়ে ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ সালে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর আরও সাত বছর কেটে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি হাসপাতালটি।
যদিও গণপূর্ত বিভাগ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, ‘ভবনের অবকাঠামোগত নির্মাণকাজসহ বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনও বসানো হয়েছে। ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।’
অন্যদিকে, বরিশাল সিভিল সার্জন এস এম মঞ্জুর-ই-এলাহী বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ প্রায় ৩০০ জন জনবল প্রয়োজন। এর পাশাপাশি ইনকিউবেটর ও লাইফ সাপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের চাহিদাও পাঠানো হয়েছে। এসব নিশ্চিত করা না গেলে সেবা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই স্থবিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বরিশাল-এর সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জনবল আর সরঞ্জামের দোহাই দিয়ে গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগের এই রশি টানাটানি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে বিভাগের কয়েক লাখ শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দ্রুত চালুর ঘোষণা দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হাসপাতালটি চালু না হওয়া দুঃখজনক। সব জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে চালুর জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ জন শিশু। যার মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২৪ জন। বিশেষায়িত হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় এই বিপুল সংখ্যক শিশুর সঠিক চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।