ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা ॥ ভোলার বোরহানউদ্দিনে নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগককে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একে-অপরকে দোষারোপ করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও নৌ বাহিনীর একটি যৌথ টিম।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চৌকিদার বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মুফতি মাওলানা ফজলুল করিম। সকালে ওই এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে গেলে বিএনপি কর্মী আইয়ুব তাদের বলেন বাড়িতে পুরুষ নেই মহিলারা রয়েছেন। আপনারা বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করবেন না। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায় এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ওই বাড়ির নারীরাও রয়েছেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাড. কাজী মো: আজম বলেন, সকাল বেলা জামায়েত ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের নির্বাচনী প্রচারনায় স্থানীয় চৌকিদার বাড়ীতে গেলে বাড়ী থেকে তাদের জানায়, বাড়ীর পুরুষরা ক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছে এবং মহিলারা গোসল সহ গৃহস্থলির কাজে বাড়ির উঠোনে রয়েছে। আপনাদের এ বাড়িতে প্রবেশের দরকার নেই আপনারা সামনের বাড়িতে যান। ওই সময় তারা জোড় করে ওই বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে ক্ষেতে কাজ করা পুরুষদের মধ্যে একজন উঠে এসে তাদের বাধা দেয় এবং তিনি জানতে চান কেনো জামায়েত এর কর্মীরা খালি বাড়িতে প্রবেশ করবে। এ নিয়ে ওই বাড়ির লোকজন সহ স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সাথে তাদের বাকবিতন্ডা হয় পরে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে আহতরা হলেন- বিএনপি কর্মী আইয়ুব চকিদার, ইউসুফ, শামীম, শিমু আক্তার, কহিনুর, উজ্বল, আমিন সহ আরো অনেকে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, সকাল আনুমানিক ৮ টার দিকে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দাড়িপাল্লার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহীমের কর্মী ইউসুফ, আইয়ুব আলী, কহিনুর, সোহাগ ও শামীমের নেতৃত্বে জামায়াতের প্রচারনায় হামলা সংঘটিত হয়। এই হামলায় গুরুতরভাবে টবগী ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াত নেতা ফয়জুল্লাহ, জামায়াতের কর্মী- ইমন, রুহুল আমিন, শামীম, রাতুল, তানভীর, রায়হানসহ আরও অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মাওলানা আব্দুল হালিম ও ফয়জুল্লাহর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি গত কয়েকদিনে ভোলা-২ আসনে সংগঠিত বেশ কিছু ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একইসঙ্গে সকল সংগঠিত ঘটনার বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভোলা-২ আসনে যেন অবিলম্বে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয় এবং সাধারণ মানুষ যেন ভয়ভীতি ছাড়া তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে সে ব্যাবস্থা গ্রহনের আহ্বান জানান।
এদিকে দুপুরে কুড়ালিয়া হাউজে ভোলা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হাওলাদার গনমাধ্যম কর্মীদের বলেন, জামায়াত পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ আসনে একেরপর এক মব তৈরি করে যাচ্ছে। তারা ওই বাড়িতে হেলমেট পরে লুটতরাজের উদ্দেশ্যে গিয়েছে। তিনি আরো বলেন এই আসনে তাদের ভোট নেই বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে নির্বাচন বানচালের জন্য একের পর এক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদের সকল ষরযন্ত্রের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বোরহানউদ্দিন থানার (ওসি তদন্ত ) রিপন কুমার সাহা জানান, নির্বাচনী প্রচারনাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় সেখান থেকেই বাক বিতন্ডা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থতি আমাদের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌ বাহিনীর যৌথ টিম সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।