• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বেতাগীতে সড়ক তো নয়, যেন রোপা আমন ধানের ফসলের মাঠ

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ১৭:২৩ অপরাহ্ণ
বেতাগীতে সড়ক তো নয়, যেন রোপা আমন ধানের ফসলের মাঠ

স্বপন কুমার ঢালী, বেতাগী ॥ ‘দুই যুগ আগে কহান ইট দেছেলো এ রাস্তায় , হেয়া আবার ছয় মাসের মধ্যে কাঁদায় নষ্ট হয়ে রাস্তায় নাইম্মা গেছে। হেই থেকেই তো মোরা এ কাঁদার রাস্তার হাঁিট। মোরা তো এহন মরার পথে । আমাগো জীবনতো যায় যায়, ইটের রাস্তা দেইখা মনে হয় মরতে পারমু না। ’ কথাগুলো বলছিলো বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের ৮২ বছর বয়সের বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন।

জানা গেছে, হোসনাবাদের রাসেল স্কোয়ার থেকে দক্ষিণ হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পর্যন্ত রান্তা কাঁচা রয়েছে। ১৯৯৭ সালে ওই রাস্তায় মাত্র ৪ শত মিটার পর্যন্ত সোলিং করা হয়েছিল। রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা জানান, সোলিং করার কয়েক মাসের মধ্যে ইটগুলো নেমে যায়। বর্তমানে কয়েক বছর ধরে বর্ষার সময় রাস্তায় হাঁটু সমান কাঁদা হয়। বৃষ্টির পানি জমে ফসলের মাঠে পরিনত হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পরে শিশু শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বর্ষার সময় প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। শিক্ষার্থী দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আরেফিন ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাথী আক্তার জানায়,‘ বর্ষার সময় ওই রাস্তা দিয়ে একদিন বিদ্যালয় ক্লাশ করতে গেলে দুই/তিন ধরে যেতে পারি না কারণ আমাদের পোষাকগুলো কাঁদায় নষ্ট হয়ে যায়।’ স্থানীয় বাসিন্দা মোশারেফ হোসেন বলেন,‘ রাস্তাটি মেরামত করা খুবই জরুরী।’ দক্ষিণ হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল ইসলাম বলেন,‘ সড়কটি মেরামত করা দরকার। বর্ষার সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও উপস্থিত কম থাকে। রাস্তা খারাপ থাকায় অনেক অভিভাবক বিদ্যালয় ভর্তি করাতে চায় না।’ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘ বর্ষার সময় রাস্তায় প্রচুর পরিমান কাঁদা হয়। ফলে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পরতে হয়।’

এ ব্যাপারে হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান বলেন,‘ আশা করি সড়কটি যেকোন প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে নির্মান কাজ শুরু করব।’ বেতাগী উপজেলা সিনিয়র সহকারী প্রকোশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন,‘ ইতোমধ্যে সড়কটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি, অতি শীঘ্রই এ সড়কের একটা ব্যাবস্থা করা হবে।’