• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বানারীপাড়ায় কাবিখার সাড়ে ৭ মে.টন চাল ক্রয় করে ফেঁসে গেলেন আ’লীগ নেতা ৬ মাসের কারাদন্ড

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ১৭, ২০২০, ১৮:৪৫ অপরাহ্ণ
বানারীপাড়ায় কাবিখার সাড়ে ৭ মে.টন চাল ক্রয় করে ফেঁসে গেলেন আ’লীগ নেতা ৬ মাসের কারাদন্ড

মো. সুজন মোল্লা,বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি॥

বরিশালের বানারীপাড়ায় কাবিখার সাড়ে ৭ মে.টন চাল ক্রয় করে ফেঁসে গেলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম ইউসুফ আলী। জানা গেছে সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ধারালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দ পাওয়া সাড়ে ৭ মে.টন চাল প্রকল্পের সিপিসি (সভাপতি) কুদ্দুস হাওলাদার একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। ইউপি সদস্য রফিক ওই চাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম ইউসুফ আলীর

 

কাছে বিক্রি করেন। ওই সাড়ে ৭ মে.টন চাল ২৫৬টি বস্তায় ভর্তি ছিলো। যা শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পৌর শহরের ১ নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড় বন্দর বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একে এম ইউসুফ আলীর আড়তে বসে “নুরজাহান মোরকের” বস্তায় পরিবর্তণ করার সময় স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদকে জানান। তিনি গিয়ে ওই ২৫৬ বস্তা চাল জব্দ করে একেএম ইউসুফ আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে সেখানে মোবাইল কোর্টে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়।

 

তবে প্রকল্পের সিপিসি এবং ওই ইউপি সদস্যের ব্যপারে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান সিপিসির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিশির কুমার পাল,উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) কমল কান্তি অধিকারি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কারাদন্ড প্রাপ্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একে এম ইউসুফ আলী জানান সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে ৭ মে.টন চাল তিনি ক্রয় করেন। যার ডিউ তার কাছে রয়েছে। ওই চাল উপজেলার ধারালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ

 

ভরাটের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো। গত ৩১ মার্চ ওই প্রকল্পের চালের ছাড়পত্র দেওয়া হলেও ১৭ এপ্রিল সকালে খাদ্যগুদাম থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একে এম ইউসুফ আলীর আড়তে নেওয়া হয়। ভিজিএফ, ভিজিডি, কাবিখা কিংবা টিআরের খাদ্যশস্য (চাল/গম) ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান না থাকলেও বানারীপাড়ায় প্রকাশ্যে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খাদ্যগুদাম থেকে এসব চাল/গম বিকিকিনি হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদ জানান একেএম ইউসুফ আলীর আড়ৎ থেকে ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের ২৫৬ বস্তা চাল জব্দ করে তাকে মোবাইল কোর্টে ৬ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।

 

উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) কমল কান্তি অধিকারী জানান গত কয়েকদিনে বিভিন্ন প্রকল্পের সিপিসিরা ৩৮ মে.টন ৮৪৬ কেজি চাল খাদ্যগুদাম থেকে তুলে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে ওই চালও খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এদিকে শুক্রবার দুপুরে কারাদন্ড প্রাপ্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে বরিশাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত আওয়ামী লীগ নেতা একে এম ইউসুফ আলী প্রায় অর্ধযুগ পূর্বে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অন্যের সহায়তায় তিনি চলাফেরা করে থাকেন।