আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা: আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামের সুমাইয়া (৭) ও আমতলী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামের মরিয়ম (৫) বাঁচতে চায়।
তাদের দুজনেরই হার্ডে ছিদ্র ধরা পরে। দুজনের হার্ডের অপারেশনের জন্য প্রয়োজন সাড়ে চার লক্ষ টাকা। দুই পরিবারের দরিদ্র বাবা মায়ের সামর্থ নেই যে এত টাকা দিয়ে চিকিৎসা করাবেন।
টাকার অভাবে সময়মত চিকিৎসা করাতে না পারলে শিশু দুটির জীবন প্রদীপ নীভে যাবে। এই দুশ্চিন্তায় দুই পরিবারের বাবা মায়ের চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তাদের চোখের সামনে অবুঝ শিশু দুটি ঝড়ে যাবে।
এজন্য প্রয়োজন কোন দাণশীল ব্যাক্তির কিংবা সংস্থার সহযোগিতা। এরকম কেউ এগিয়ে আসলে বাঁচানো যাবে শিশু দুটির প্রাণ।
সুমাইয়া (৭) আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামের বাবা ফোরকান মাল ও মা শারমিন বেগমের বড় মেয়ে।
সুমাইয়ার বয়স যখন ১ বছর তখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরলে তাকে ঢাকার শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখতে পান সুমাইয়ার হর্ডে ২টি ছিদ্র রয়েছে।
৬ বছর ধরে গরীব বাবা মায়ের চিকিৎসা করাতে সহায় সম্পদ যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। সুমইয়ার চিকিৎসক ঢাকা শিশু হাসপাতালের হৃদরোগ বিষেশঞ্জ ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান এখন সুমাইয়ার অপারেশন না করালে তাকে বাঁচানো যাবে না। এজন্য প্রয়োজন দেড় লক্ষ টাকা।
কিন্ত গরীব বাবা মায়ের পক্ষে এত টাকা জোগার করা সম্ভব না। তাই সুমাইয়ার চিকিৎসার সহযোগিতার জন্য দরিদ্র বাবা মো. ফোরকান মাল দানশীল ব্যাক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে তার নিজের বিকাশ নম্বর ০১৭৫৮০৭৩৪৩৭।
আরেক শিশু মরিয়ম(৫)। আমতলী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামের শাহজাহান ঘরামী ও মাহফুজা বেগমের মেয়ে।
আড়াই মাস বয়সের সময় মরিয়ম অসুস্থ হয়ে পরলে ঢাকার ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালের চিকিসা করালে তখন ওই হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষঞ্জ ডা. নুরুন নাহার পরীক্ষা করে দেখতে পান মরিয়মের হার্ডে ২টি ছিদ্র রয়েছে। এবং একটি ভাল্বেও সমস্যা আছে।
এতদিন দরিদ্র বাবা মা কোন রকম চিকিসা চালিয়ে আসলেও এখন আর তাদের এমন কোন সম্বল নেই যে চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন।
হার্ডে এবং ভাল্বে সমস্যার কারনে মরিয়মের শরীরে জ্বর, সর্দি কাশি এবং ঠান্ড জনিত সমস্যায় আক্রান্ত থাকেন সবসময়।
চিকিৎক বলেছেন তার এখন অপারেশন প্রয়োজন। সময়মত অপারেশন না করাতে পারলে মরিয়মকে বাঁচানো যাবে না।
অপারেশনের জন্য প্রয়োজন ৩ লক্ষ টাকা। দরিদ্র বাবা মায়ের পক্ষে এত টাকা যোগার করে অপারেশন করা সম্ভব না।
তাই দানশীল ব্যাক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে অবুজ শিশু মরিয়মের জীবন বাঁচানো সম্ভব। মরিয়মের জীবন বাঁচানোর অনুরোধ করেছেন মরিয়মের বাবা মা। কোন স্বহৃদয় বান ব্যাক্তি সহযোগিতা করতে চাইলে বিকাশ নম্বর বাবা শাহজাহান ঘরামী ০১৭৭৯০৪৬১৬৭।
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মানজুরুল হক কাওসার জানান, অসুস্থ শিশুদের নিয়ে তাদের বাবা মা আমার কাছে এসেছিল। শিশু দুটি সব সময় অসুস্থ থাকে।
তাদের চিকিৎসার আর্থিক সহযোগিতার জন্য দুটি আবেদন জমা নেওয়া হয়েছে। আবেদন দুটি জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তার নিকট পাঠানো হবে।