• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৯শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশালে ঘন ঘন লোডশেডিং, গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত এপ্রিল ৭, ২০২৬, ১৭:৪৪ অপরাহ্ণ
বরিশালে ঘন ঘন লোডশেডিং, গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ বরিশাল নগরীতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। নগরের অধিকাংশ এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং উৎপাদন কম থাকায় চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এদিকে গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে নগরজুড়ে।

বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, তাঁর আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ৭৮ দশমিক ৫ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৫০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় প্রতিটি ফিডারে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর আওতায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৯ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২১ মেগাওয়াট। মূল গ্রিডে বিদ্যুৎ কম থাকায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

নগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর চৌহুতপুর এলাকার বাসিন্দা হোসেন চৌধুরী বলেন, তাঁদের এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে। তিনি বলেন, ‘এমন অবস্থা হয়েছে যে মনে হয় বিদ্যুৎ বিলই হয়তো দিতে হবে না।

নগরের নিউ সার্কুলার রোডের বাসিন্দা মাসুদ আহমেদ বলেন, গরমের পাশাপাশি মশার উৎপাত বেড়েছে। এর মধ্যে তীব্র লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বয়স্করাও খুব কষ্ট পাচ্ছেন।

এদিকে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নগরের বাণিজ্যিক এলাকা গির্জামহল্লার কয়েকজন দোকানি জানান, সরকার দোকান খোলার সময় কমিয়ে দিয়েছে। তার ওপর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ক্রেতা কমে গেছে। এতে ব্যবসায় ধস নামছে।

গির্জামহল্লার চশমা ব্যবসায়ী মো. রফিক বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে আমাদের ব্যবসায় মন্দা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশালের রূপাতলী গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এই অবস্থা স্থায়ী নয়। গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কম থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মিজান হাওলাদার জানান, সোমবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রোববার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩ এপ্রিল, ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।