বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বরিশাল-৬ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন। এতে করে তার রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন তিনি।
স্বতন্ত্র এই প্রার্থী বলেন,যে কর্মকর্তা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন, তার পক্ষে নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ থাকা কঠিন। এ অবস্থায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের এএসপি (সার্কেল) মাসুম বিল্লাহর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ওই কর্মকর্তার নিজ বাড়ি নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই অবস্থিত উল্লেখ করে কামরুল ইসলাম খান বলেন, অতীতে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জদের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
কামরুল ইসলাম খান বলেন,ভোটাররা স্বাধীন ও নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার জরুরি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ইউএনও ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, প্রার্থীর সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তিনি চাইলে এমন দাবি তুলতেই পারেন।
নির্বাচনের আগে এমন অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে বরিশাল-৬ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও কৌতূহল বাড়ছে।