বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল॥ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া-তেঁতুলতলা সড়কে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সংযোগ সেতুর কাজ ১ বছরে ভিতর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা পাঁচ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। ফলে বিকল্প পথে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে ৮টি গ্রামের হাজারো মানুষের। এতে যেমন পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি তেমনি বেড়েছে যাতায়াত খরচ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে বাইশকুড়া বাজার থেকে তেঁতুলতলা সংযোগ সড়কে চলাচলকারী শতশত যানবাহন দীর্ঘ ভিন্ন পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এছাড়া কয়েকটি ইউনিয়েনের লক্ষাধিক মানুষ পারাপারের জন্য বিকল্প ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করছেন।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ পায় টিএন অ্যান্ড এএসআই লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী সেতুটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, যা শেষ করার কথা ২০২১ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। পারাপারের জন্য যে বিকল্প সাঁকো করা হয়েছে সেটিও অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। নিরুপায় হয়ে শিশু ও বৃদ্ধরা পারাপারের সময় পড়ে আহত হয়েছেন অনেকে। এলাকাবাসীর দাবি সেতুটির কাজ অতিদ্রুত শেষ করে দুর্ভোগ লাগব করা হোক।
স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান মাঝি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। বাইশকুরা খালের উপর যে সেতুটি হওয়ার কথা ছিল সেটি না হওয়ায় আমাদের ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়। আমাদের এলাকায় কোনো গাড়ি ঢুকতে পারে না। ফলে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। কোনো মানুষ মারা গেলে তাদের জরুরি দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা এবং লাশ পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা হয়। আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তারা যেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য তারা যেন উদ্যোগ নেয়।
মঠবাড়িয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটির কাজ ২০২০ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু জটিলতার কারণে কাজটি শুরু করতে দেরি হয়। কাজটি সম্পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এখন রি-টেন্ডারের প্রক্রিয়া চলমান।
মঠবাড়িয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর দেয়া তথ্যমতে, ৩৭ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণে ৩ কোটি ৬১ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।