• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বরিশাল আওয়ামী লীগ

নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছেন হিরণ অনুসারীরা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৩, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছেন হিরণ অনুসারীরা

বিডি ক্রাইম ডেস্ক, বরিশাল ॥ বরিশাল নগর রাজনীতির আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের নাম। বরিশালের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সহাবস্থানে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। এ কারণে মৃত্যুর ৯ বছর পরও নগরবাসী তাঁকে ভোলেনি।

তবে হিরণের মৃত্যুর পর দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠজন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি হওয়া সিটি নির্বাচনে নবনির্বাচিত মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহকে ঘিরে নতুন করে উজ্জীবিত হন তাঁরা।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হিরণ ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। নগরজুড়ে তাঁর ছিল বিশাল অনুসারী নেতাকর্মী। ২০১৩ সালের নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজিত হিরণ ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে মহানগর-সদর আসনের এমপি হন।

এমপি হওয়ার তিন মাস পর ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর শূন্য আসনে তাঁর স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হন।

স্থানীয় রাজনীতিসচেতন মহলের মতে, জেবুন্নেছাকে ঘিরে হিরণ অনুসারীরা সংগঠিত থাকার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নানান সংকটে তাঁরা বেশিদিন সংগঠিত থাকতে পারেননি। এতে তাঁরা রাজনীতিতে কোণঠাসা ও অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। অনুসারীদের সংগঠিত রাখার ব্যর্থতায় ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হন জেবুন্নেছা; ক্রমে হারিয়েছেন নেতৃত্ব।

অপরদিকে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বে দলের মধ্যে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সাদিক আবদুল্লাহ সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলে মহানগর আওয়ামী লীগের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাঁর হাতে। রাজনীতিতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিরণ অনুসারী কিছু নেতাকর্মী সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য মেনে নেন। যাঁরা মেনে নেননি তাঁরা পড়েন অস্তিত্ব সংকটে। অনেকে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গেল সিটি নির্বাচনে সাদিক আবদুল্লাহর চাচা আবুল খায়ের আবদুল্লাহ মনোনয়ন পেলে তাঁকে ঘিরে নতুনভাবে সংগঠিত হয়েছেন হিরণ অনুসারীরা। খায়েরের নির্বাচনের মূল শক্তিই ছিলেন তাঁরা।

নগরীতে হিরণপন্থি হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট কেবিএম আহমেদুল কবীর, অ্যাডভোকেট আনিছ উদ্দিন শহীদ, অ্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক, অ্যাডভোকেট আফজালুল করীম, মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক নিজামুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সিকদার, যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমান, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন প্রমুখ। আবুল খায়েরের নির্বাচনে তাঁরাই ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। জেবুন্নেছা মেয়র পদে সাদিক আবদুল্লাহর মনোনয়ন পাওয়ার পক্ষে সরব ছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে তিনিও আবুল খায়েরের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হয়ে চমক দেখান।

সাবেক ভিপি মঈন তুষার বলেন, জীবিত হিরণের চেয়ে মৃত হিরণ বরিশাল নগরবাসীর কাছে আরও জনপ্রিয়। এতে ভীত হয়ে তাঁর অনুসারীরা নানাভাবে দলের এক প্রভাবশালী নেতার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

লস্কর নুরুল হক বলেন, সদ্য শেষ হওয়া সিটি নির্বাচনে জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল প্রয়াত মেয়র হিরণকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে হিরণ অনুসারীরা নতুনভাবে সংগঠিত হতে পেরেছেন। তাঁরা আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বরিশাল উন্নয়ন ফোরামের সমন্বয়কারী কাজী এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, শওকত হোসেন হিরণ যে কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে মানুষকে সংগঠিত করতেন। কাজের জন্যই মানুষ তাঁকে এখনও স্মরণ করেন। তাঁর মতো উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা থাকলে নবনির্বাচিত মেয়রও জনগণের মনে স্থায়ী ঠাঁই করে নিতে পারবেন।