• ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আমার আর কেউ রইলোনা, কি নিয়া আমি বাচমু, আমারও মইর‌্যা যাওয়া ভালো ছিলো

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত জুন ২২, ২০২৪, ২২:০২ অপরাহ্ণ
আমার আর কেউ রইলোনা, কি নিয়া আমি বাচমু, আমারও মইর‌্যা যাওয়া ভালো ছিলো

জাকির হোসেন, আমতলী॥ ‘আমার আর কেউ রইলো না, কি নিয়া বাচমু, আমারও এর চাইতে মইর‌্যা যাওয়া ভালো ছিল। তাহলে আর এত কষ্ট সহ্য করা লাগতো না’ কথা গুলো বলছিলেন, আর নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন সেতু ধসে নিতহ দুই মেয়ে তাসফিয়া (৫), তাহিয়াত(১১) ও স্ত্রী শাহনাজ আক্তারের নিথর দেহের দিকে।

শনিবার সকালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদিতে হলদিয়া ইউনিয়নের গুরুদল গ্রাম থেকে আমতলী আসছিলেন আজাদের পরিবারসহ অন্যরা। এঘনায় ৯জন নারী ও শিশু নিহত হয়। আবুল কালাম আজাদ ঢাকার ওয়ান ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ে অফিসার হিসেবে কর্মরত।

তার স্ত্রী নিহত শাহনাজ বেগম টেলিটক অফিসের প্রধান কার্যালয়ে অডিটর হিসেবে চাকুরী করতেন। বড় মেয়ে তাসফিয়া মোবাশ্বেরা আজাদ (১১) ভিকারুন নেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণি এবং ছোট মেয়ে তাহিয়াত মেহজাবিন আজাদ বারিধারার সাইথ পয়েন্ট স্কুল এন্ড কলেজ নার্সারী শাখার ছাত্রী ছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার তারা আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের ভাগ্নি হুমায়রা আক্তারের বিয়ে অনুষ্ঠানে আসেন পরিবারের ৪ সদস্য সকলকে নিয়ে। ভাগ্নির বিয়ে অনুষ্ঠান শেষে শনিবার দুপুরে আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডে অবিস্থত ছেলের বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাইক্রোবাস যোগে অন্যান্য অত্মীয়দের নিয়ে রওয়ানা করেন।

মাইক্রোবাসটি হলদিয়া বাজার সংলগ্ন লোহার সেতুর মাঝবরাবর আসামাত্র সেতু ধসে খালে পড়ে ৯জন নিহত হয়। এঘটনায় আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার, দুই মেয়ে তাসফিয়া ও তাহিয়াত ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

আবুল কালাম আজাদ মাইক্রোবাসের কাচ ভেঙ্গে সাতরিয়ে কিনারে উঠতে পারলেও স্ত্রী ও মেয়েদের বাঁচাতে পারেননি তিনি।

শনিবার বিকেলে আমতলী উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় আবুল কালাম আজাদ শোকে পাথর হয়ে এখন শুধু নির্বাক দৃষ্টিতে নিহত স্ত্রী আর দুই মেয়ের দিকে তাকিয়ে শুধু বিরবির করছেন।

এসময় তার দুই চোখ দিয়ে শুধু পানি ঝড়তে দেখা গেছে। মাঝে মাঝে আবার তিনি মেঝেতে গড়া গড়াদিয়ে আর্তনাদ করছেন। আর বলছেন ও অল্লাহ আমারে এখন নিয়া যাও।

আমারে একলারে বাচাইয়া রেখে কি লাভ। ওদের সাথে মারা গেলেও ভালো হতো। এই যন্ত্রনা আর সহ্য করা লাগতো না।

তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন, আমার পরিবারটি অত্যান্ত সুখি পরিবার হিসেবে সকলেরকাছে সুনাম ছিল।

আজ সব সুনাম শেষ হয়ে গেছে। আবুল কালাম আজাদ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ক্রোকচর (চরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি ১০ বছর ধরে চাকুরির সুবাদে ঢাকায় বসবাস করেন।