মির নাজমুল ॥ যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পে ইউপি সদস্যদের ঘুষ কেলেংকারি রয়েছে বরিশাল সদর উপজেলায়। প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ টাকা বাজেট থাকলেও ২০/৪০ হাজার টাকাও ঘুষ হাতানো হয়েছে বরাদ্দকৃত ঘর মালিক থেকে। এনিয়ে ইউএনও বললেন তদন্ত করা হবে। সুত্রে জানা গেছে, জাগুয়া ইউনিয়নে ১৮টি, রায়পাশা কড়াপুর ১৮টি, চরবাড়িয়া ১৮টি, সায়েস্তাবাদে ১৯টি সহ অন্যান্য ইউনিয়নেও দুঃস্থ্যদের মাঝে এ ঘর নির্মান করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিনামুল্যের এ ঘর বিতরণে ইউপি সদস্যদের এহেন দুর্ণীতির বিষয়ে অনুসন্ধানসুত্রে জানা গেছে, কড়াপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড ধম্মাদী গ্রামের দিনমজুর সাইদুল ইসলাম ছাদেকের নামে একটি ঘর নিয়ম অনুসারে বরাদ্দ দেয়া হয়। এ ঘরটি সার্বিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেয়া হয় ইউপি সদস্য আবু বক্কার মল্লিককে। আবু বকর মল্লিক সাইদুল ইসলাম ছাদেককে বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে অফিস খরচ, চেয়ারম্যান’র খরচ এবং অন্যান্য খরচ দিতে হবে বলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। তখন ঘর পাবে বলে কথা; বিভিন্ন ভাবে ধারদেনা করে সাইদুল ও তার স্ত্রী মিলে ২০ হাজার টাকা বক্কার মেম্বরকে দিয়ে দেয়। বাকি ১০ হাজার টাকা চলতি মাসে পরিশোধ করার ওয়াদা রয়েছে। গতকাল এসব ঘুষ লেনদেনের কথা সাইদুলের স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে বলেন। তিনি আরো বলেন, ঘুষের কথা কেউ যদি জানে তাহলে বিপদ হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে কড়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকনের মুঠোফোনে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু ঘুষের হোতা ইউপি সদস্য আবু বক্কার মল্লিক বলেন, আমি কোন টাকা পয়সা লেনদেন করিনায়, তবে সাইদুলের ঘরটির দায়িত্বে ছিলাম। এদিকে সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে ২টি ঘর থেকে ঘুষ হাতিয়ে নিয়েছে ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম স্বপন। স্বপনের দায়িত্বে কামাল হোসেনের ঘরটি দেয়া হয় এবং মহিলা ইউপি সদস্য রানি বেগমের দায়িত্বের ঘরটির লেনদেন করে স্বপন। কামালের কাছ থেকে মালামাল পরিবহন বাবদ ১০ হাজার টাকা এবং সোহেলের আম্মা ছালেহা বেগমের পক্ষ থেকে সোহেলের কাছ থেকে ৪৯ হাজার টাকা ঘুষ নেয়। তখন ঘরটি সরেজমিনে নির্মান হয়নি, শুধুমাত্র স্থান নির্ধারন করা হয়েছে। এব্যাপারে ভূক্তভোগী সোহেল জানায়, আমি ঝালকাঠিতে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর দেখেছি, সেই রকম ঘর পাবো মনে করে বাড়ির পাশের মেম্বর স্বপন ভাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের কথা বলে সর্বমোট ৪৯ হাজার টাকা নেয়। পরে যখন ঘরটি নির্মান করে তখন আমি বুঝতে পারি অর্ধলক্ষ টাকায় একি ঘর পেলাম। সাইদুল আরো বলে, স্বপন মেম্বর আমাকে বলেছে টাকার বিষয়টি যদি কারো কাছে বলিশ তাহলে ঘরটি কিন্তু ফেরত নিয়ে যাবো, আর টাকাও ফেরত পাবি না। তাই চুপ রয়েছি। একই ভাবে স্বজনপ্রীতি ও নির্মানের ঘর নির্মান হয়েছে চরবাড়িয়া ইউনিয়নে সেখানে পাকা ঘরের মালিককে ও হতদরিদ্রদের ঘর দেয়া হয়েছে ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদককে। তবে ঘর দিয়ে ঘুষ হতদরিদ্রদের পেটে লথি দেয়া থেমে নেই সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নেও। সেখানে লাবু আকনকে একটি ঘর দিয়েছে চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান মুন্নার মাধ্যমে। এতে চেয়ারম্যান মুন্না’র পক্ষে দায়িত্ব পালন করে তার ব্যক্তিগত খাস লোক বলে পরিচিত মোঃ জাফর হোসেন। তিনি লাবুর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানায় লাবুর আম্মা। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাফর জানায়, আমি কোন লেনদেনের সাথে জড়িত নই। তবে চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান মুন্না বলেন, কোন ঘরের বাবদ আমার কোন লোক যদি টাকা হাতিয়ে নেয় তাহলে তদন্ত করে সত্যতা পেলে পুলিশে সোপর্দ করা হবে। এভাবে ইউনিয়নের হত দরিদ্রদের ঘর দিয়ে তাদের কাছ থেকে কোন না কোন ভাবে ঘুষ হাতানো হয়েছে। অপর এক সূত্র জানায়, ঘর দেয়ার বিষয়ে যে শর্তে ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয় তারা ঘর ডিপটিউবওয়েল ও সোলার ইত্যাদি প্রলোভন দেখিয়ে ঘুষ হাতিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: হুমায়ুন কবির বলেন, ঘর প্রতি বাজেট ছিলো এক লাখ টাকা। ইউনিয়নগুলোর প্রত্যন্ত এলাকায় নির্মান সামগ্রী পৌছাতে পরিবহন খরচ বেশি। এরপর মিস্ত্রি খরচও কম নয়। এককথায় একলাখ টাকায় টয়লেট ও ঘর নির্মাণ করা অনেকটাই কঠিন ছিলো। আর আমি প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির অবস্থা যাচাই করেছি। তবে ইউপি সদস্যরা যদি এই ঘর বাবদ দুর্ণীতি করে থাকে তাহলে তা কঠোরভাবে তদন্ত করা হবে। এদিকে বরিশাল জেলা প্রশাসক বলেন, আজকে এ বিষয়ে মিটিং হয়েছে। আর দুর্ণীতির বিষয়ে অবশ্যই তদন্ত করা হবে এবং এখনই আমি এবিষয়ে ইউএনওকে বলবো । অপরদিকে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীন এ কাজের বিষয়ে উপ প্রকল্প পরিচালক এসএম হামিদুর রহমান এর ০১৭১৮০২২৭১২ নাম্বারে ফোন করলে বলেন, দুর্ণীতির বিষয়ে ইউএনও ও ডিসিকে বলেন। আর আমরাও গুরুত্বের সাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবো। উল্লেখ্য ঘরগুলোতে নিু মানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। ১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ১৫ ফুট প্রস্থ্য নেই ২১টি খুটি নিু মানের ৮/১০ কেজি রড প্রয়োজন তুলনায় খুব সামান্য।