• ১৩ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সুষ্ঠুভাবে ঈদ উদযাপনে

সড়ক ও নৌপথে ঈদ সেবা সপ্তাহ ঘোষনা

admin
প্রকাশিত মে ২৮, ২০১৯, ১৭:৩৩ অপরাহ্ণ

মির নাজমুল: ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সড়ক ও নৌপথে ঘোষনা করা হয়েছে ঈদ সেবা সপ্তাহ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ঠ সকলকে সদা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি বিশেষ সেবা ও তিন স্তরের নিরাপত্তা এবং চালক ও যাত্রীদের প্রতি ২৪ নির্দেশনাসহ দৈণিক ২৫টি বৃহত্তর নৌযান যাত্রী পরিবহনে প্রস্তুত রেখে ঈদ সেবা সপ্তাহ ঘোষণা করেছে বরিশাল আধুনিক নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বরিশাল-ঢাকা সড়ক পথে দুরপাল্লার ১শ ৫০টি ও মালিক সমিতির ১শ ৬০টি বাস চলাচল করবে যাত্রী পরিবহনে। চলতি মাসের ৩০ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত শুরু হবে ঈদ কেন্দ্রিক এ সেবা সপ্তাহ। গতকাল নৌবন্দরের সভা কক্ষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বিএমপি, র‌্যাব-৮, কোস্টগার্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ নৌযান মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের এক সমন্বিত সভায় এ তথ্য জানা গেছে। এসময় বরিশাল জেলা পশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে বিশেষ করে নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানি বা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কঠোরভাবে রুখে দেয়া হবে। এজন্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের কঠোর হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আগে থেকেই চালক-শ্রমিকদের দিতে হবে। এমনকি বাসে নারী যাত্রীদের ওঠানোর সময় যেভাবে হাত ধরে টানাটানি করা হয়, তা থেকেও বিরত থাকতে হবে। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারেন সেদিকে সবার সমন্বিতভাবে চেষ্টা চালাতে হবে। ঈদ সেবা সপ্তাহ চালু ব্যাপারে নৌবন্দরের উপ-পরিচালক মো:আজমল হুদা মিঠু বলেন, ৩০ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত আমাদের ঈদ সেবা সপ্তাহ চলবে। আর এতে থাকবে পল্টুনে অতিরিক্ত যাত্রী সমাগম নির্বিঘœ করা, অতিরিক্ত নৌযান ভিাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা, নৌবন্দরসহ প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা ও মোবাইল নাম্বার সম্বলিত ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়াসহ মেডিকেল টিম, অস্থায়ী যাত্রী ছাউনি তৈরী, সুপেয় পানি পান করার ব্যবস্থা, যাত্রী শৃঙ্খলায় স্কাউটের স্বেচ্ছাশ্রম, নৌযানে দুর্ঘটনাকবলিত সুরক্ষার জন্য ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ টিম ও পরিবহন প্রস্তুত থাকবে। নৌবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে উপ-পরিচালক আরো বলেন, বন্দরে র‌্যাব ও নৌ পুলিশের টহল টিম থাকবে। পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে চেকিং করার ব্যবস্থা থাকবে এবং কেবিন প্রদাণে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নিশ্চিত করা হবে। এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক পথে বৃহত্তর দখিন জনপদের প্রায় ৪১ উপজেলার যাত্রীদের সমাগম ঘটবে। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রী দিন রাতে আসা-যাওয়া করবে নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনাল হয়ে। সেক্ষেত্রে যাত্রীদের শৃঙ্খলার সাথে পরিবহনের প্রস্তুতির বিষয়ে বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের প্রস্তুতি হিসেবে উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকে নিজস্ব চেকপোস্ট ও টহল দল থাকবে যাত্রীবহুল স্পটগুলোতে। কারন যাত্রীদের অভিযোগ পাওয়া মাত্র যাতে ব্যবস্থা নেয়া যায়। শুধু তাই নয় টার্মিনালগুলোতে আমাদের মোবাইল নাম্বার দেয়া থাকবে। আর দিন রাত মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিনশ বাস চলাচল করবে। অপরদিকে বরিশালের সড়ক ও নৌপথে দৈণিক প্রায় ১০ লক্ষাধিক যাত্রী পরিবহন নির্বিঘœ করতে চালক ও যাত্রীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, রাতের বেলায় মালবাহী ও বালুবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ, ঈদের আগে ও পরে ১ জুন থেকে ৮ জুন পর্যন্ত দিনের বেলায় বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ, পাশাপাশি নদীতে জাল ফেলা বন্ধ, লঞ্চে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করা, ভাড়া না বাড়ানো, লঞ্চের চালক-মাস্টারদের জায়গায় যাত্রী পরিবহন না করা, প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হওয়া, সরু চ্যানেলে (মিয়ারচর) পাশাপাশি দু’টি লঞ্চ চলাচল না করা, নদী তীরের সিগনাল বাতিসহ সাংকেতিক চিহ্ন ঠিক রাখা এবং নদীর মধ্যে কোনো লঞ্চ না থামানো এবং সড়ক পথে ফিটনেসবিহীন মোটরযান সড়কে চলাচল ও যাত্রী পরিবহন না করা, অনভিজ্ঞ ও লাইসেন্সবিহীন চালক-হেলপার দিয়ে মোটরযান চালনা থেকে বিরত থেকে ওভারলোডে যাত্রী পরিবহন না করা, চালকদের সময়মতো বিশ্রাম দেয়া, ভাড়া ঠিক রাখা। এছাড়াও মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন আলাদা ও যৌথভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে অযথা যানবাহন থামিয়ে হয়রানিমূলক কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না এবং ঈদের আগের ও পরের তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চালনা বন্ধ। একই সাথে যাত্রীদের প্রতি শৃঙ্খলিত উঠা-নামা নির্দেশনা প্রতি মুহুর্তে বাস ও নৌবন্দর টার্মিনাল থেকে প্রচার করা হবে।