নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্বচ্ছলকে সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা, স্বচ্ছলসহ এবং নামেমাত্র হরিজনকে সহায়তা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে নগরীর সমাজসেবা দপ্তরে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশে এহেন কর্মকান্ড ঘটেছে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে। সুত্রে জানা গেছে, নগরীর ১৭নং ওয়ার্ডে সুদমুক্ত ঋণ গত বছর দেয়া হয়েছে ৩ লাখ, ৩ নং ওয়ার্ডে ৪ লাখ, ৪ নং ওয়ার্ডে ৩ লাখসহ ২৩ নং ওয়ার্ডে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৪ নং ওয়ার্ডের সিকদারপারা এলাকার আছমত আলী মধ্যম পর্যায়ের মুদি দোকানদার তার নামে ঋণ দেয়া হয়েছে। অথচ তার দোকানে দুজন কর্মচারীও রয়েছে। ১৭ নং ওয়ার্ডেও আবুল হোসেন তার স্ত্রীর রেহেনার নামে সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছেন। এব্যাপারে নগরীর সমাজসেবা দপ্তরের সমাজসেবা অফিসার মো: জাবের বলেন, অসহায় এবং একদম পুজিহীন লোকদেরকে সুদমুক্ত ঋণ দেয়া হয় যাতে কোন রকম একটা আয়ের পথ খুঁজে পায়। আর স্বচ্ছল লোকদের ক্ষেত্রে যদি এ ঋণ পৌছে যায় তাহলে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশে হতে পারে। কারন তাদের রাজনৈতিক সুপারিশ অনেক সময় রাখতে হয়। প্রত্যেককে ১০/২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এ ঋণ দেয়া হয়। তবে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আমরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত সফল এবং আশা করছি শতভাগ সফল হবো। এসময় তিনি আরো বলেন, ১৭ নং ওয়ার্ডে ১৭ জন, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডসহ অন্যান্যগুলোতে মোট ২০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। এদিকে হরিজন কিংবা দলিত কার্যক্রমের সাথে জড়িত নাথেকে কোম্পানিতে চাকুরীসহ ব্যবসা করে স্বচ্ছলতা অর্জন করলেও সমাজসেবা থেকে শিক্ষাবৃত্তি নেয়ার ঘটনা রয়েছে। ৫শ শ্রেণীকে উপবৃত্তি দেয়া হয়েছে। দলিত সম্প্রদায়ের বিএম কলেজ অনার্স শিক্ষার্থী মিথিলা দাসকেও উপবৃত্তি দেয়া হয়েছে। অথচ এদের পরিবার এখন সংশ্লিষ্ট পেশায় না থেকে বরং ব্যবসায়ে মোটামুটি অবস্থান তৈরী করেছে। কিন্তু এরপর দুঃস্থ্য কিংবা অস্বচ্ছলদের জন্য এই টাকা কেন স্বচ্ছলদেরকে দেয়া হলো এবিষয়ে জানতে চাইলে সমাজসেবা দপ্তর জানায়, বন্টন নীতিমালায় রয়েছে হরিজন, দলিত সম্প্রদায়কে দিতে হবে। সুত্রে জানা গেছে, মেথর, সুইপার না বলে ‘হরিজন’ বলার নির্দেশ দিয়েছে মহাত্মাগান্ধি। আর জন্ম ও পেশাগত কারণে বৈষম্য কিংবা বঞ্চনার শিকার মানুষ আন্তর্জাতিক পরিসরে ‘দলিত’ সম্প্রদায় নামে পরিচিত। চর্মকার, মালাকার, কামার, ডোম, কুমারসহ মুচি সম্প্রদায়কে দলিত বলে অভিহিত করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে (১৮৩৮-১৮৫০) বিভিন্ন সময়ে পূর্ববঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মী, জঙ্গল কাটাসহ পয়ঃনিষ্কাশন কাজের জন্য ভারতের উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, উড়িষ্যা, পুরুষদের নিয়ে আসা হয়। ভূমিহীন ও নিজস্ব বসতভিটাহীন এ সম্প্রদায় দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে জমি, রেলস্টেশনসহ সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছে। সমাজের মুল স্রোতধারায় এজনগোষ্ঠীকে পরিচালিত করার জন্য তাদের সন্তান-সন্ততিদের বিদ্যালয়মুখী করাসহ অনটন দুর করতে আর্থিক সহায়তা এবং উপবৃত্তি দেয়া হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।