• ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

তালতলীতে চিকিৎসা সেবার নামে

লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জমজমাট ব্যবসা

বিডিক্রাইম
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১, ১৭:৪০ অপরাহ্ণ
লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জমজমাট ব্যবসা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে চিকিৎসা সেবার নামে চলছে লাইসেন্স ছাড়াই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জমজমাট ব্যবসা।

মানুষের জীবন-মৃত্যু নিয়ে ব্যবসা করছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। চারটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে একটি ক্লিনিকেরও বৈধ কোন লাইসেন্স নেই।

বরগুনার সিভিল সার্জন কার্যলয় সূত্রে জানা যায়, তালতলী উপজেলায় নিউ পপুলার ডায়াগনোস্টিক ল্যাব, তালতলী ইসলামী হসপিটাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার,তালতলী ডিজিটাল ডায়াগনোস্টিক সেন্টার,দোয়েল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার রয়েছে।

তার একটি নিউ-পপুলার ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আছে তবে চলতি বছরের জুন মাসে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। বাকি তিনটিতে কোনো ধরেন লাইসেন্স নেই।

সরকারি অনুমোদন পাওয়ার আগেই ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে । সরকারি বিধি অনুযায়ী লাইসেন্স পাওয়ার আগে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনার কোন নিয়ম নেই।

কিন্ত তালতলীতে ডায়গনিস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের মালিকরা বছরের পর পর লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিকগুলো চালাচ্ছে। এখানে অহরহ রোগী ভর্তিসহ নানা ধরনের চিকিৎসা কর্যক্রম চালাচ্ছে।

উপজেলা পরিষদের সামনে মুক্তিযোদ্ধা ভবন ভাড়া নিয়ে তালতলী ইসলামী হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম শুরু করেন।

তবে কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ক্লিনিকটিতে রোগী ভর্তি এবং অস্ত্রপাচার চালাচ্ছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এখানে নেই সার্বক্ষণিক চিকিৎসক। একই ভাবে দোয়েল ক্লিনিক এন্ড

ডায়াগনোস্টিক সেন্টার গর্ভবর্তী রোগি ভর্তি করে অকারণে অস্ত্রপাচার করতে বাধ্য করেন রোগির স্বজনদের। এই অভিযোগ রয়েছে দোয়েল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বিরুদ্ধেও।

ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিতে যাওয়া রোগিদের কারণে অকারণে টেস্ট দিয়ে হয়রানি ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের নামে প্রতিদিন মাইকিং করা হলেও কার্যত কোন স্থায়ী চিকিৎসক নেই এখানে।

মালিপাড়া গ্রামের শেফালী বেগম পেটে সমস্যা নিয়ে নিউ পপুলার ডায়গনিস্টিক সেন্টারে ডাক্তার দেখাতে আসলে সেখানকার ডাক্তার ৪-৫ হাজার টাকার বিভিন্ন টেস্টের পর তার কিডনির সমস্যা আছে বলে জানায়।

দিশে হারা হয়ে শেফালী বরগুনার ডাক্তার দেখালে তার কিডনিতে কোন সমস্যা নেই বলে জানান চিকিৎসকরা।

অনুরুপ নিশানবাড়িয়া গ্রামর মাহমুদুল আসেন নিউ পপুলার ডায়গনিস্টিক ল্যাবে ডাক্তার দেখাতে। সেখানে টেষ্টের নামে তার নিকট থেকে অপচিকিৎসার মাধ্যমে ৫-৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।এ ছাড়া অনেক রোগীই এসব ক্লিনিকে সেবা নিতে এসে চিকিৎসার নামে হয়রানির শিকার হয়েছে।

এবিষয়ে তালতলী ইসলামী হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবের ম্যানেজার মাসুম ফরাজী বলেন,আমাদের সকল কাগজপত্র স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।

সেগুলোর চালান ফরমও আমাদের কাছে আছে। অস্ত্রপাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষটি এড়িয়ে যায়।

নিউ পপুলার ডায়াগনোস্টিক ল্যাবের মালিক মো.আবুল বাসারকে মুঠো ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কাওছার হোসেন বলেন, লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলে সেগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ আমাদের জানালে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে লাইসেন্স বিহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন,ক্লিনিকাল লাইসেন্স ছাড়া অস্ত্রপাচার ও মেজর কোনো সার্জারি করার সুযোগ নেই। যদি কেই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, তালতলী ও আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকতাকে লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

তালিকা পেলে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।