• ১৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রান্নার গ্যাসে চলছে যাত্রীবাহি অটো

admin
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০১৯, ১৩:১৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের যত্রতত্র মজুদে অনিরাপ হয়ে উঠেছে নগরীর বাসাবাড়ি। জেলা প্রশাসন থেকে পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হওয়ার পরও থেমে নেই গ্যাস সিলিন্ডারের ঝুকিপুর্ণ মজুদদারী। পাশাপাশি ঝুকিপুর্ণ কাঠামোতে ফায়ার লাইসেন্সও দেয়া হয়েছে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার মজুদদারীদের। এনিয়ে বরিশাল বিষ্ফোরক পরিদপ্তর সুত্র জানায়, নগরীতে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে মাত্র কয়েক মাস। জনবল সংকট থাকার কারনে মাঠ পর্যায়ের তদারকি পুরোমাত্রায় হয়ে উঠছেনা। দুর্বল অবকাঠামোতে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের জন্য ফায়ার লাইসেন্স দেয়ায় অগ্নিকান্ডের ঝুকিপুর্ণতা বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে নগরীর ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের এডি মো: মতিন বলেন, ফায়ার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে কোনপ্রকার ছাড় দেয়া হবেনা। আর কেউ যদি দুর্বল অবকাঠামোতে ফায়ার লাইসেন্স দিয়ে থাকে এবং তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নগরীতে যত্রতত্র রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের বিষয়ে অনুসন্ধান সুত্রে জানা গেছে, বটতলা মসজিদের বিপরীতে শরীফ ডিলারের দোকানের মধ্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করেন বিক্রির জন্য। কিন্তু বিষ্ফোরক আইনানুযায়ী ১০টি পর্যন্ত সিলিন্ডার মজুদ করার সুযোগ রয়েছে। অথচ এর কয়েকগুন গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখেছে তার দোকানের পিছনের কক্ষে। আর এ দোকানটির দুপাশে গরম দুধের দোকানসহ ভাতের হোটেলও রয়েছে। পিছনে বসতবাড়ি এবং একটি বালিকা বিদ্যালয়সহ শরীফ ডিলারের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি দোকানটির বিপরীতে মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে নিকটবর্তী দুরত্বে। যেকারণে প্রতিদিন অনেক ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও মুসল্লী আসা-যাওয়া করে দোকানটির সামনের সড়ক হয়ে। জনবহুল এ স্পটটিতে যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের ব্যপারে স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলাম ০১৭১২৫২৯২৮২ এ নাম্বারে ফোন করলে তিনি এবিষয়ে বলেন, আমরা আনি এবং বিক্রি করি। কিন্তু আপনার দোকানের পিছনের কক্ষে দৈনিক প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে রাখেন। বিষ্ফোরক আইনানুযায়ীতো গ্যাস সিলিন্ডার তাদের অনুমোদিত গোডাউন ছাড়া মজুদ অবৈধ। এসময় তিনি বলেন, আমাদের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু মজুদের বিষয়ে তো অনিয়ম করছেন এরকোন সদুত্তর তার থেকে পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয় এম জলিল সড়কে আলম স্টোরেও অধিক পরিমানে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রেখেছে তাদের মুদি দোকানের সামনে। দোকানটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫/২০টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার মজুদ থাকে। এনিয়ে আলম স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো: নজরুল বলেন, এভাবে মজুদ করাটা ঝুকিপুর্ণ। কিন্তু জেনেও একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস সংলগ্ন এলাকায় কেন যত্রতত্র পদ্ধতিতে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করছেন। এসময় তিনি বলেন, আমাদের ভুল হয়ে গেছে এখন থেকে আর রাখবোনা শুধু মাত্র ৭/৮ টি ছাড়া। অপরদিকে নগরীর সিএন্ডবি সড়কে চক্ষু হাসপাতাল সংলগ্ন গলিতে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের গোডাউন বানানো হয়েছে। অথচ বিষ্ফোরক ও ফায়ার লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে শার্তাবলীর মধ্যে রয়েছে, গোডাউনটির চার পাশে কমপক্ষে ২০ মিটার ফাঁকা থাকতে হবে, আবাসিক এলাকায় না হওয়া, পার্শ্ববর্তী আগুনের কোন নিয়মিত উৎস্য না থাকা, আগুনের উৎপত্তি হতে পারে এমন উৎস্য যেমন বিদ্যুতের বোর্ড না থাকা, গোডাউনে পর্যাপ্ত আলোবাতাস থাকা। অত্র স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের জন্য গোডাউনটিতে ২/১টি নিয়ম মানা হলেও গুরুত্বপুর্ণ কোন শর্ত মানা হয়নি। কারন অতি নিকটবর্তী স্থানেই রয়েছে অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়িসহ চায়ের দোকান। এহেন ঝুঁকিপুর্ণ পরিবেশে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের ব্যপারে স্বত্ত্বাধিকারী মো: আজিম বলেন, আমরা ইতিমধ্যে জায়গা দেখতেছি। আর এভাবে আবাসিক এলাকায় মজুদ যে ঝুঁকিপুর্ণ তাও বুঝতে পারছি। কিন্তু অবকাঠামো তৈরী করতে আরো একমাস সময় লেগে যাবে। এরপর আমরা পুরোপুরি ত্র“টিমুক্ত থেকে কাজ করতে পারবো। অনুসন্ধান সূত্রে জানাগেছে, নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ টিটিসি সংলগ্ন বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করছেন মোঃ আনিচুর রহমান। তার গোডাউনে অগ্নিনির্বাপন লাইসেন্স সনদ রয়েছে। কিন্তু ২০০৩ সালের অগ্নি নির্বাপন আইন অনুযায়ী গোডাউনে শুধুমাত্র কয়েকটি ফায়ার ইষ্টিংগুয়িসার রয়েছে। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের জন্য যে অবকাঠামো দরকার তা যে নেই, তা সহসাই স্পষ্ট। শুধু তাই নয় তার দোকানের পেছনে বাড়তি একটি কক্ষকে গোডাউন বানিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রায় ৫ শতাধিক গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার মজুদ রয়েছে। এমনকি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের কোন ব্যবস্থা নেই। এদিকে আবাসিক এলাকায় গ্যাস বিক্রির গোডাউন ঝুঁকিপূর্ণ হলেও প্রায় ১২টি গোডাউন রয়েছে। এর মধ্যে নগরীর রুপাতলী এলাকায় হেমায়েত মিয়ার বসুন্ধরা ডিপু, ছালেক মিয়ার ওমেরা, টিটিসি এলাকায় আনিচ, বিসিক এলাকার টেক্সটাইল সংলগ্ন সড়কে ডিলার বাপ্পির গ্যাস সিলিন্ডার গোডাউন রয়েছে। এতে বিসিক এলাকায় এ ধরনের গোডাউন রাখার নিয়ম না থাকলেও বেশ গোপনেই এ দাহ্য পদার্থের মজুদ গড়ে উঠেছে। এ নিয়ে বিসিকের দপ্তর সূত্র জানায়, বিসিকের এষ্টেট অফিসার খায়রুল বাশার বলেন, বিসিকে গোডাউন গড়ে তোলার সুযোগ নেই যার ফলে এর মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখারও সুযোগ নেই, এটা সম্পূর্ণই অবৈধ। গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের ব্যাপারে নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক মো: অজিয়র রহমান বলেন, ইতিমধ্যে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করলে তো জননিরাপত্তা বিঘিœত হয়না। আর এই কাজটি যে ব্যবসায়ী করবেনা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হবে। অপরদিকে বিস্ফোরক পরিদপ্তর বরিশাল দপ্তরের পরিদর্শক মো: ফরিদউদ্দিন বলেন, শীঘ্রই তালিকা তৈরী করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রথমে ব্যবসায়ীদেরকে নোটিশ দেয়া হবে এরপর কাজ নাহলে অভিযান পরিচালিত হবে। উল্লেখ্য দৈনিক দেশজনপদ পত্রিকায় সম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের বিষয়ে অনিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরা হয় এবং পরবর্তী নগরীতে অভিযান পরিচালিত হয়।