• ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৪শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ভোলার মেঘনায় জলদস্যুর উপদ্রব, আতঙ্কে জেলেরা

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ২১:১৮ অপরাহ্ণ
ভোলার মেঘনায় জলদস্যুর উপদ্রব, আতঙ্কে জেলেরা

আকতারুল ইসলাম আকাশ,ভোলা ॥ ভোলার মেঘনা নদীতে হঠাৎ করে বেড়ে চলছে জলদস্যুর উপদ্রব। আতঙ্কে রয়েছে নদীতে মাছ শিকারের সকল জেলেরা। ভয়াবহ এমন পরিস্থিতির কারণে রাতে মাছ শিকার থেকে বিরত রয়েছেন হাজারো জেলেরা।

জেলেরা জানান, নদীতে প্রতিদিন ৪-৫ দল জলদস্যুরা রাতের আঁধারে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়ে চলছে।

জেলেদের দাবী কোস্ট গার্ড রাতে নিয়মিত টহল দিলেও নৌ-পুলিশের নেই কোন ভূমিকা। পরিচিত এইসব জলদস্যু দলের সদস্যরা স্থানীয় পরিচিত হলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছেন জলদস্যু দলের সদস্যরা।

তবে কোস্ট গার্ড বলছে, জলদস্যুদের ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। আর নৌ-পুলিশ বলছে, সঠিক তথ্য ও অবস্থান না পাওয়ার কারণে জলদস্যুদের ধরতে হিমশিম খাচ্ছে নৌ-পুলিশ।

কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও জেলে সূত্র থেকে জানা যায়, মাসখানেক ধরে নদীতে জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়েছে। নদীতে মাছ পাওয়া গেলেই, বেড়ে যায় জলদস্যুদের তান্ডব। এইসব জলদস্যুদের রয়েছে ৪-৫ টি গ্রুপ। গুচ্ছ গ্রাম, বঙ্গের চর, ভাংতির খাল, মাঝের চর, ইলিশা জংশন ও নোয়াখালীর অনেক পরিচিত জলদস্যু গ্রুপ এমন সব ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটায়। একমাসের মধ্যে এই পর্যন্ত ৪-৫ টি ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ভোলার মেঘনা নদীতে।

ইলিশা জংশন বাজারের ঘাট মহাজন ও বেপারী মোঃ কবির জানান, মঙ্গলবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় সাড়ে আটটার দিকে মেঘনা নদীতে চার জেলে মিলে মাছ শিকারের জন্য যায় কবির বেপারীর ট্রলারটি নিয়ে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে মাঝের চরের খাল থেকে জলদস্যুর একটি ট্রলার হানা চালায় কবির বেপারীর ট্রলারে। ট্রলারে থাকা চার জেলেকে নদীর মাঝ পথে নামিয়ে ট্রলারটি নিয়ে যায় জলদস্যুরা। ট্রলারে থাকা জেলেরা চিনতে পারে সেই জলদস্যু গ্রুপের সকল সদস্যদেরকে। চার জেলে জানান, জলদস্যু মঞ্জুর, সুদের হাটের (আল-আমিন), পরাণগঞ্জ এলাকার (হারুন), রাজাপুরের (সাজু মাঝি), চর আনন্দ গ্রামের (শফিক), রহিম ও কামালসহ আরো কয়েকজন তাদের ট্রলারে হানা দেয়। পরে তাদের কাছ থেকে টাকা, মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। জলদস্যুরা কবির বেপারীকে ফোন দিয়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মুক্তপন চায়। কবির বেপারী কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনকে খবর দিলে কোস্ট গার্ড প্রায় রাত দুইটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে জলদস্যুদের কোন খোঁজ পাইনি। বাধ্য হয়ে নিজের ট্রলার ও মালামাল বাঁচতে ট্রলার মালিক কবির বেপারী জলদস্যুদের দেওয়া বিকাশ নাম্বারে ৫০ হাজার টাকা মুক্তপণ দেন। পরে রাত ৪টার দিকে মাঝের চরের একজায়গায় ট্রলারটি রেখে যায় জলদস্যুরা।

ইসমাঈল মাঝি বলেন, মেঘনায় জলদস্যুদের ৪-৫ টি গ্রুপ রয়েছে। তবে সকল জলদস্যুরা চিহ্নিত ও পরিচিত। তারা একেক সময় একেক জায়গায় অবস্থান নেয়।

জসিম মাঝি বলেন, তিন লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে জাল নৌকা ঠিক করে মেঘনায় নেমেছি মাছ ধরতে। মোটামুটি ভালোই মাছ পড়ছে নদীতে। তবে রাতে জলদস্যুদের ভয়ে মাছ শিকার থেকে দূরে থাকি। জলদস্যুদের টার্গেট করা মুক্তপণ সঠিক সময়ে না দিলে। অনেক সময় তারা অনাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা ঘটান।

তবে জলদস্যুদের এমন ভয়াবহ তান্ডব সম্পর্কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের লেফটেন্যান্ট মোঃ শাকিল বলেন, কোস্ট গার্ড আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে জলদস্যুদের ধরতে। তবে তাদের সঠিক অবস্থান না জানতে পারায় ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েছে জলদস্যুরা। তবে অতি দ্রুত সময়ে তাদেরকে আটক করা হবে বলে আশ্বস্ত দেন কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা। ইলিশা নৌ-পুলিশের ইনচার্জ সুজন পাল বলেন, নৌ-পুলিশও সবসময় তৎপর রয়েছে জলদস্যুদের ধরতে। তবে জলদস্যুদের অবস্থান পরিবর্তনশীল হওয়ায় তাদেরকে আটক করা যাচ্ছেনা। তাদেরকে অতি দ্রুতই আটক করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তাও। তবে এই পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগ ভুক্তভোগীরা কোন দুর্ঘটনার খবর তাদেরকে অবহিত না করায় সঠিক সময়ে তারা অভিযান চালাতে ব্যর্থ হন।