• ৫ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যু, কারাগারে চিকিৎসক

admin
প্রকাশিত জুলাই ৫, ২০১৯, ১৯:২৮ অপরাহ্ণ
ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যু, কারাগারে চিকিৎসক

ভৈরবে হাতের রড খুলতে এসে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম জুয়েল মিয়া। ভুল চিকিৎসায় নিহতের খবরে তার স্বজনরা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের ট্রমা জেনারেল (প্রাইভেট) হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক চিকিৎসকে আটক করেছে পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে গৌরাঙ্গ নামে এক ওয়ার্ড বয় তিনি নিজেই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারে ভূমিকা পালন করেন। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তাররা বসে নিদের্শ দেন আর গোরাঙ্গ কাজ করেন। ফলে হাসপাতালের অধিকাংশ অপারেশনের সময় ওয়ার্ড বয় গৌরাঙ্গই সব করে থাকেন।

জুয়েলের বেলাও ব্যতিক্রম হয়নি। তাছাড়া যিনি এনেস্থিসিয়া দিয়েছেন, তিনি হলেন ডা. ইমরান। নিহত জুয়েলকে যে এনেস্থিসিয়া প্রয়োগ করা কথা তা দিতে ডা. ইমরান অপরাগতা জানান। কারণ ওই এনেস্থিসিয়া প্রয়োগের জন্য তিনি আনফিট ছিলেন। কিন্তু ওয়ার্ড বয় গৌরাঙ্গের অনুরোধে তিনি এনেস্থিসিয়া দিতে বাধ্য করা হয়। ফলে জুয়েল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

রোগীর বড় ভাই মো.কামাল মিয়া জানান, ‘দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার ভাইয়ের হাতের কবজি ভেঙ্গে যায়। সে সময় কবজিতে অপারেশন করে স্ক্রুসহ দুটি প্লেট লাগিয়ে দেন ডা. কামরুজ্জামান আজাদ। দুই বছর পর সে স্ক্রু ও প্লেট অপসারণের জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় ডা.কামরুজ্জামান আজাদ জুয়েলকে অপারেশনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।

‘রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওটি থেকে ডাক্তার বের হয়ে বলেন, আপনাদের রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। উনাকে ঢাকায় আইসিইউতে নিতে হবে। এরপর তিনি আবার ওটিতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর এসে আবার বলেন, আপনার ভাইয়ের কাজটা সুন্দরভাবেই করলাম। যখন বেডে নেব সেসময় শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। সেটা আমরা ক্লিয়ার করতে পারছি না। এখন সেটা সমস্যা লাগছে। তখন আমি তাকে জিঙ্গাসা করলাম, আমার ভাই কি আছে নাকি মারা গেছে। পরে আমি ওটিতে গিয়ে দেখি জুয়েল মারা গেছে। ভুল ওষুধ দিয়ে ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে।’

ডা. কামরুজ্জামান আজাদ জানান, ‘সম্পূর্ণ অজ্ঞানে ঝুঁকি থাকায় রোগীর এক পাশ অবশ করে অপারেশন করা হয়। রোগীর আবদার ছিল, সে যেন কোনো রকম টের না পায়। সেজন্য ঘুম পাড়াতে বলে। তার অনুরোধে ডা. ইমরান তাকে ঘুমের ওষুধ দেন। ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে তার হাত থেকে সার্জারির মাধ্যমে স্ক্রুসহ দুটি প্লেট অপসারণ করা হয়। ওটি থেকে বের করা মুহূর্তেই হঠাৎই রোগীর পেশার কমে যায় এবং তার হৃদপিন্ডের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরক্ষণেই রোগী মারা যান।

তিনি আরো জানান, গত দুই বছর আগে একইভাবে তাকে স্ক্রুসহ দুটি পেন্টাট লাগানো হয়। তখনো তাকে ঘুমের ঔষুধ দেয়া হয়েছিল। তিনি সুস্থ হয়েছিল।

ভৈরব থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বাহলুল খান বাহার জানান, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের ফোর্সসহ আমি যাই। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোগীর ভাই বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। যে ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এবং যথাসময়ে আদালতে পাঠানো হবে।