• ৬ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরি

বিশ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি শেবাচিম ও সদর হাসপাতালে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৯, ১৩:২০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিশ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি শেবাচিম ও সদর হাসপাতালের অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা। তৎক্ষণাত আগুন নেভানোর জন্য দেয়া হয়না প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও। রোগী ও স্বজনসহ ঝুকিতে রয়েছে প্রায় দু সহস্রাধিক। অপর্যাপ্ত ফায়ার স্টিংগুইশারই শেষ কথা হাসপাতাল কৃর্তপক্ষের। শুধু তাই নয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নাজুক হওয়ার কারনে অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি আরো বেড়েছে। এনিয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক বলেন, এখনই আমি ফায়ার সার্ভিস দপ্তরে ফোন করছি বলে দপ্তরটিতে ফোন দিয়ে বলেন, আমাদের হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে কিকি করণীয় রয়েছে। শীঘ্রই আমাকে জানান। কিন্তু এতবছরেও কেন পুর্ণাঙ্গ ফায়ার কোড বাস্তবায়িত হয়নি শেবাচিম হাসপাতালে? এসময় তিনি আরো বলেন, আমি এখানে এসেছি মাত্র কয়েকমাস। আর আমি কয়েকদিন আগে হাসপাতাল ঘুরে দেখেছি এবং মেয়াদ উত্তীর্ন অগ্নিনির্বাপন সিলিন্ডার অপসারণ করেছি। ফায়ার সার্ভিসের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করে হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা পুরোমাত্রায় কার্যকর করছি। প্রায় চল্লিশ বছরের পুরানো ও বৃহত কাঠামোর হাসপাতালটিতে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা জানতে ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ যদি চিঠি দেয় তাহলে আমরা ২/১ দিনের টিম পাঠাবো এবং করণীয় কি তা জানিয়ে দেয়া হবে। এরমধ্যে রয়েছে যথাযথ জলাধার হোজ রিল, ফায়ার ডিটেক্টিং সিগন্যাল, অটো ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা। এ্যাপারে নগরীর ফায়ার সার্ভিস দপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: মতিউর রহমান বলেন, যেহেতু অনেক রোগী ও স্বজন সমাগম হয় হাসপাতালটিতে সেক্ষেত্রে ফায়ার সেফটি বাস্তবায়ন করা দরকার। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পক্ষ থেকে বারবার এসব হাসপাতালকে নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হলেও তা আমলে নিচ্ছে না এসব জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। এই ঝুঁকির তালিকায় থাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গত ১৪ ফেব্র“য়ারি আগুন লেগে ভয়াবহ ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এরপরও টনক নড়েনি অগ্নিঝুঁকিতে থাকা বেশিরভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অগ্নি প্রতিরোধ আইনানুযায়ী আমরা প্রতিষ্ঠানটিতে ভিজিট করবো এবং প্রতিবেদন তৈরী করবো কি ধরণের ফায়ার কোড বাস্তবায়ন করা যায়। এসময় জানতে চাওয়া হয় শেবাচিম হাসপাতালে কি ধরণের ফায়ার কোড বাস্তবায়ন করা সম্ভব? এ সময় তিনি আরো বলেন, ওখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে ফায়ার হোজ রিল এবং অটো ফায়ার ডিটেক্টিং চালু করা যেতে পারে। এতে রোগী কিংবা স্বজন নিজেই তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভাতে সক্ষম হবে। সুত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে শেবাচিম হাসপাতালে তিনবার অগ্নি কান্ডের ঘটনা ঘটে। অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ড ও আইসিউ এবং সিসিইউতে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়। অপরদিকে সদর হাসপাতালেও অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থাও দু চারটে ফায়ার স্টিংগুইশারেই শেষ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে দৈণিক প্রায় দু’শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন থাকে। চিকিৎসাধীন ওয়ার্ডগুলোর কোনটিতেই অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র স্টোর কক্ষ ও ওটিতে ফায়ার অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রয়েছে। এ ব্যাপারে সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা:মো: মনোয়ার হোসেন বলেন, অগ্নিকান্ড এড়াতে অবশ্যই ফায়ার কোড ভবনগুলোতে বাধ্যতামুলক রয়েছে। আর আমরাও তার বাইরে নই। তবে হাসপাতালে ফায়ার স্টিংগুইশার রয়েছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। অবশ্যই ফায়ার সার্ভিসের সাথে কথা বলে করণীয় ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রশিক্ষণ ও মহড়ার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি হাসপাতাল ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ে কমিশন গঠনের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।