নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাটাদিয়া খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে চলছে নানা অনিয়ম । সম্প্রতি বরিশাল জেলা পরিষদের ঘাট ইজারা প্রদান করলে তাতে ম্যানেজ পক্রিয়ায় সরকারি নিয়মবহির্ভূত কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। খেয়াঘাটটি প্রতি বছর অন্ত টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে আসছে। এর ন্যায় সম্প্রতি বরিশাল জেলা পরিষদ দরপত্র আহবান করা হলে দুইটি সিডিউল জমা পরেছে। একটিতে সাবেক ইজারাদার হোসেন মেম্বর ১০ লক্ষ টাকা দরপত্র জমা দিয়েছে অপরটিতে দর এর থেকে কম করে সিডিউল জমা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে সাবেক ইজারাদার হোসেন মেম্বর জেলা পরিষদের কতিপয়দের সাথে গোপন সক্ষতায় নিয়মবহির্ভুত ভাবে টেন্ডারটি বাগিয়ে নেবার পায়তারা চালাচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন তিনটি সিডিউল জমা পরতে হবে কিন্তু ঘাটের ইজারা নেবার জন্য পরেছে মাত্র দুইটি। আর নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সাবেক ইজারাদারকেই টেন্ডার পাইয়ে দিতে এ অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে জানা গেছে, সাবেক ইজারাদার হোসেন মেম্বর শর্তাবলী ভঙ্গকরে অধিক অর্থ নেয়া হত। শর্তাবলীতে জনপ্রতি ২ টাকা করে এবং মটর সাইকেলের জন্য ১০ টাকা করে নেবার কথা থাকলেও জোরপূর্বক জন প্রতি ১০ টাকা করে এবং মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য ৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার করে এ ঘাট থেকে।
পারাপার নিয়ে জনমনে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘাটের ইজারাদার হোসেন মেম্বরের খামখেয়ালীপনার কাছে সাধারণ মানুষ অসহায়। খেয়া পারাপারের জন্য মাত্র একটি ট্রলার রেখে তাতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন অশোভন আচরণ করা হচ্ছে বয়োবৃদ্ধদের সাথেও।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐতিহ্যবাহী কাটাদিয়া বাজার সংলগ্ন রাঙ্গামাটি নদীতে এই খেয়াটি প্রায় শত বছর আগের। খেয়ার দূরত্ব কম হওয়ায় মাত্র ৫/৬মিনিট লাগে পার হতে। পূর্বে কয়েকটি নৌকা সার্বক্ষণিক দুই পারেই অবস্থান করত। কিন্তু আঃ রাজ্জাক খেয়াঘাট ইজারা নেওয়ার পর শুরু করেন নৈরাজ্য। নৌকার মাঝিদের পেটে লাথি মেরে তাদের সরিয়ে সেখানে মাত্র একটি ট্রলারে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা করেন। ফলে শুরু হয় বহুমুখি সমস্যার।
মাঝিরা হয়ে পড়েছে কর্মহীন, ট্রলার এক পাড়ে থাকলে অপর পাড়ে দীর্ঘ হয় যাত্রীর সংখ্যা, বাড়ানো হয়েছে ভাড়া। চালক তার ইচ্ছে হলে ট্রলার ছাড়ে, না হলে ছাড়ে না। অনেক সময় যাত্রীদের অপেক্ষায় রেখেই চা পানের কথা বলে চলে যায় নিজ কাজে। এদিকে খেয়া পারাপারের একমাত্র ভরসা ট্রলারটি রাত ১০টার পর চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন মানুষ। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নিতে চাইলে তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় কাটাদিয়া খেয়াঘাট।
সস্প্রতি বাকেরগঞ্জের একজন মুক্তিযোদ্ধা এসব স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে ট্রলার চালক ও ইজারাদারের সহযোগীতা তাকে অকথ্য ভাষা ব্যবহারে নাজেহাল করে ছাড়ে।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার হোসেন মেম্বর বলেন,টাকা দিয়ে ইাজারা নিয়েছি লোকসানের জন্য নয়। যেভাবে ঘাট চালালে আমার লাভ বেশি হবে সেভাবেই চালাবো। এ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আঃলীগ নেতারা মানববন্ধন করেন। এদিকে সরকারি নিয়ম বহির্ভুত ভাবে ইজারা পাইয়ে দেবার ম্যানেজ প্রক্রিয়ার বিষয় পাচ কান হলে বিষয়টি ধামা চাপা দিতে মরিয়া হোসেন মেম্বর ও জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী।