বাউফল প্রতিনিধি ॥
পটুয়াখালী বাউফলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট বিদালয়ের শিক্ষকরা সরকারের নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকরা পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়েও ভোট চাচ্ছেন; নিশ্চয়তা দিচ্ছেন প্রার্থীর দেয়া প্রতিশ্রুতিকেও। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক সহ সূধি মহলে নিন্দার ঝড় বইছে।
জানাগেছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯খ্রি: রবিবার উপজেলার ১০৩নং বাউফল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন নির্বাচন।
বিদ্যালয়টিতে অভিভাবক ভোটার ৭৪০টি। এর মধ্যে পুরুষ ৩৭০ ও মহিলা ৩৭০। একজন অভিভাবক তার পছন্দের ২জন মহিলা ও ২জন পুরষ প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের একটি পদ্ধতি রয়েছে। যার সদস্য সংখ্যা সভাপতি সহ মোট ১১জন।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ব্যাতিরেকে অন্য সদস্যদের থেকে ১জন সভাপতি এবং একজন সহ- সভাপতি হবেন।
পদাধিকার বলে প্রধান/ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সদস্য সচিব নির্বাচিত হবেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ১জন পুরুষ ও ১জন মহিলা বিদ্যোৎসাহী সদস্য হবেন, একজন জমি দাতা (যদি থাকে), বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মনোনীত একই উপজেলার সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের নিকটতম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক/ শিক্ষিকা সদস্য হবেন (সে ক্ষেত্রে শিক্ষিকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে)।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক সদস্যের মনোনীত একজন শিক্ষক সদস্য নির্বাচিত হবেন, ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবকদের নির্বাচিত ২জন পুরুষ ও ২জন মহিলা সদস্য সহ স্থানীয় কাউন্সিলরের সদস্য থাকবেন ১জন।
কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক অভিভাবক নির্বাচনে সদস্য হতে পারবেননা এবং কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোটও চাইতে পারবেননা বলে সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ১০৩নং বাউফল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
যেখানে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিকারীরা অভিভাবকদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরাও তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে অভিভভাবকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা, লিজা আক্তার, রাহিমা বেগম, পলি আক্তার ও তানিয়া বেগম তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। অভিভাবক রিপন খান, রফিক হাওলাদার, ইয়াসমিন বেগম, জেসমিন আক্তার, মস্তফা খান, লোকমান চৌকিদার ও সোহাগ মোল্লা জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই যদি তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে আমাদের কাছে ভোট দাবী করেন তবে কেন নির্বাচন ?
অপরদিকে অভিভাবক সদস্য প্রার্থী আনিচুর রহমান, মামুন খান ও নিলুফা বেগম অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক পলি বেগম, তানিয়া বেগম, লিজা আক্তার ও রাহিমা বেগম প্রার্থী সবুজ হাওলাদার, উত্তম কুমার, শিপ্রা নন্দি ও মোসা: আছমাউল হোসনার পক্ষে অভিভাবকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।
এর মধ্যে তানিয়া বেগম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান এর স্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে, তারা কোন অভিভাবকের বাড়ি কিংবা বাসায় ভোট চাইতে যায়নি বলে ফোন কেটে দেন।
পরে একাধীকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতা রিয়াজুল ইসলাম জানান, সকল নির্বাচনের একই নিয়ম। একজন সরকারী কর্মচারী হয়ে কাহারো পক্ষে ভোট চাইতে পারেনা! প্রার্থীরা আবেদন করলেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।