নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বরিশাল জেলাধীন উজিরপুর উপজেলার ৯নং গুঠিয়া ইউনিয়ন মাদকের ঘাটিতে রুপান্তরিত করার অভিযোগ রয়েছে দফাদার সায়েম’র বিরুদ্ধে। সে ইউনিয়নের তেরদ্রন গ্রামের মৃত: মো: মতিউর রহমানের পুত্র। ইউনিয়নবাসী দফাদার সায়েমের অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে ছিলেন ২নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো: শহিদুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মো: মোজাম্মেল সরদার, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মো: মনির হোসেন, ৫নং ওয়ার্ড মো: কবির হোসেন, ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো: রাজ্জাক হোসেন।
২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর তদন্ত কমিটি চেয়ারম্যান বরাবর লিখত ভাবে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে মো: সায়েম দফাদার মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মাদক ও জুয়ার মাসোয়ারা গ্রহণ করে। নামে বেনামে অভিযোগ সাজিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা গ্রহণ করা সহ রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে সায়েম দফাদারের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত সায়েমের বিরুদ্ধে এমতার অভিযোগের নিমিত্বে ইউপি চেয়ারম্যান ডা: দেলোয়ার হোসেন এ বছরের ১০ জুলাই উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ০৫-.১০.০৬৯৪০০৫.০২.০০.২০১৯.৪৬৮নং স্মারকে দফাদার মো: সায়েমের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ করেন।
অভিযোগে দফাদার সায়েমের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জুয়াখোরদের সঙ্গে জড়িত থাকা, তাদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা পয়সা নিয়ে প্রশাসনের অভিযানকে ব্যর্থ করা, জালজালিয়াতির মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া, সাধারণ জনজীবনকে অতিষ্ট করে তোলা, ইউনিয়নের বাহিরে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়া, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সহযোগীতা না করে টাকার গ্রহণ করা, ইউপি কার্যে সার্বক্ষনিক অবহেলা করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আবেদনে জনগণের সার্থে ও রাষ্ট্রিয় কার্য সঠিক ভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য দফাদার সায়েম হোসেনকে বরখাস্ত করে নতুন দফাদার নিয়োগ করণের সুপারিসান্তে অনুরোধ করেন চেয়ারম্যান ডা: দেলোয়ার হোসেন।
এতো কিছুর পরেও বহাল তবিয়াতে দফাদার সায়েম। তার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগকারীরা আতংকে রয়েছে বলে জানান অনেকে।
এব্যপারে দফাদার সায়েমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।